রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে লাগাম, সরকারি গাড়ি ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রীসহ ১৫ জন

সরকারি ব্যয় কমানো ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সাশ্রয়ী ব্যবহারের অংশ হিসেবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি, চালক ও নিজ খরচে কেনা জ্বালানি ব্যবহার করে সরকারি বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কর্মদিবসে নিজের টয়োটা গাড়িতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও শেরেবাংলা নগরে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে একই গাড়িতে সচিবালয়ে যান তিনি। এরপর থেকে সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত রয়েছেন পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারী।
আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন পুল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা পাঁচ প্রতিমন্ত্রী হলেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন, পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, তিনি বেতন ছাড়া অন্য কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করছেন না। এমনকি নিজের বেতন থেকেও ১০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিচ্ছেন।
সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) রাজা মুহম্মদ আব্দুল হাই বলেন, একটি সরকারি গাড়ির পেছনে চালক, জ্বালানি ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খাতে বছরে প্রায় ১৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়। ফলে সরকারি গাড়ি ব্যবহার থেকে বিরত থাকা কর্মকর্তাদের গাড়িগুলোতে বছরে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে।
পাঁচ প্রতিমন্ত্রী, আট উপদেষ্টা ও দুই বিশেষ সহকারীসহ মোট ১৫ জন সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করায় হিসাব অনুযায়ী এসব গাড়ির পেছনে বছরে প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বহরও ছোট করা হয়েছে। আগে তাঁর নিরাপত্তা বহরে ১৩ থেকে ১৪টি গাড়ি থাকলেও বর্তমানে তা কমিয়ে চারটিতে আনা হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের দীর্ঘ সারিবদ্ধ অবস্থানও বাতিল করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি ব্যবহারে এ ধরনের সংযম রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয় এবং ভিআইপি চলাচলের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



