সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে বিগত সরকারের অধ্যাদেশ

আগামী ১২ মার্চ বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ বিল আকারে পেশ করা হবে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আসাদ এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সংবিধানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং আইনের শাসন সুসংহত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটিই সংসদে উপস্থাপন করা হবে। যাতে সেগুলো যথাযথ সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আইন হিসেবে অনুমোদিত হতে পারে।
আইনমন্ত্রী জানান, সংবিধান অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারি করা একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া। তবে তা স্থায়ী আইনে রূপ দিতে হলে সংসদের অনুমোদন অপরিহার্য। সে কারণেই নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই এসব অধ্যাদেশ পর্যায়ক্রমে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
আসাদুজ্জামান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যেসব অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, সেগুলো সংবিধানের আলোকে জারি করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমরা সেগুলো সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করব। সংসদ সদস্যদের আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো চূড়ান্ত আইনে পরিণত হবে।
এ সময় তিনি দেশের বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে মামলার জট দেশের বিচার ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, মামলার জট নিরসন আমাদের সরকারের একটি প্রধান অগ্রাধিকার। বিচারপ্রার্থীরা যাতে দ্রত ন্যায়বিচার পান, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি নরসিংদীতে সংঘটিত আলোচিত ধর্ষণ মামলার প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এমনকি অপরাধীদের যদি কেউ আশ্রয় বা সহযোগিতা করে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের শেকড়সহ উপড়ে ফেলা হবে।
আইনমন্ত্রী জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিচার ব্যবস্থার উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন এবং বর্তমান দায়িত্বে থেকেও আরও বেশি তৎপরতা নিয়ে কাজ করবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচার বিভাগের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
এ সময় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, রাশেদ খানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।