‘বাবর বাহিনী’ তকমা পেরিয়ে ২০০৫ ব্যাচের ঐক্য ফোরাম

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
‘বাবর বাহিনী’ তকমা পেরিয়ে ২০০৫ ব্যাচের ঐক্য ফোরাম
মো. মাসকোয়াত হোসেন ও মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২১ বছরের কর্মজীবন, নানা চড়াই-উতরাই, অনিশ্চয়তা এবং বৈষম্যের অভিযোগের পর অবশেষে বাংলাদেশ পুলিশের ‘আউট সাইড ক্যাডেট ২০০৫ ব্যাচ ফোরাম’-এর ৮১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়েছে।

পুলিশের ক্যাডেট, আউট সাইড ক্যাডেটের প্রায় প্রতিটি ব্যাচের নিজস্ব ফোরাম আছে। কিন্তু নানা কারণে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ২০০৫ ব্যাচ আনুষ্ঠানিকভাবে এমন একটি সংগঠন তৈরি করতে পারেনি। নতুন এই ফোরামকে তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং নতুন যাত্রার সূচনা হিসেবে দেখছেন।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক খান মো. মাসকোয়াত হোসেন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত পুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার।

৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলুসহ সংগঠনটির আরও কয়েকজন সদস্য। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ২০০৫ ব্যাচের প্রতিনিধিদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে সারাদেশের সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়।

ফোরাম-সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৫ সালে তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগপ্রাপ্ত এই ব্যাচটি তখন পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যাচ হিসেবে পরিচিত ছিল। আট শতাধিক উদ্যমী তরুণ সারদায় মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করার পর ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিধি অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন পান।

তাদের দাবি, ২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাচটির অনেক সদস্য দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন ধরনের বৈষম্য, অবমূল্যায়ন ও পেশাগত বঞ্চনার শিকার হন। কর্মক্ষেত্রে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নামের সঙ্গে যুক্ত করে তাদের ‘বাবর বাহিনী’ বলে সম্বোধন করা হতো, যা তাদের জন্য অপমানজনক অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। ফোরাম-সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া ব্যাচটির অধিকাংশ সদস্য কোনো না কোনোভাবে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।

তাদের আরও দাবি, পুলিশের অন্যান্য ব্যাচের মতো ২০০৫ ব্যাচেরও একটি নিজস্ব ফোরাম গঠনের প্রয়োজনীয়তা বহু বছর ধরে অনুভূত হলেও তৎকালীন গোয়েন্দা নজরদারির আশঙ্কায় সেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ব্যাচের সদস্যদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম, পুনর্মিলনী, অসুস্থ সদস্যদের সহায়তা কিংবা পারিবারিক প্রয়োজনে সহযোগিতার মতো উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কোনো সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়নি।

ফোরাম-সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাচের সদস্যদের সম্মিলিত উদ্যোগে বহু প্রতীক্ষিত এই ফোরাম গঠন সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুসংহত হবে, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

নবগঠিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হলেও এটি কেবল পরিচালনাগত প্রয়োজনে। ব্যাচের প্রতিটি সদস্য সমান মর্যাদা, গুরুত্ব ও অধিকার ভোগ করবেন এবং ফোরামের সব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।

ফোরামের সভাপতি খান মো. মাসকোয়াত হোসেন বলেন, এটি শুধু একটি কমিটি নয়, দীর্ঘদিনের বিচ্ছিন্নতাকে দূর করে ব্যাচের সদস্যদের একই প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার একটি উদ্যোগ। আমরা চাই পারস্পরিক সহযোগিতা, কল্যাণমূলক কার্যক্রম এবং পেশাগত ভ্রাতৃত্ব আরও শক্তিশালী হোক।

সাধারণ সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন মজুমদার বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আমরা একটি সাংগঠনিক কাঠামো পেয়েছি। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; ২০০৫ ব্যাচের প্রতিটি সদস্যের ফোরাম। সকলকে সঙ্গে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।