logo

শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল দেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি মাছউদ

শেরপুর-৩ আসনে নতুন তফসিল দেওয়ার সুযোগ নেই: ইসি মাছউদ

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী স্থগিত করা শেরপুর-৩ আসনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির আগে নতুন তফসিল ঘোষণার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

ইসি মাছউদ জানান, আরপিওর ১৭(১) ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো বৈধ মনোনীত প্রার্থী ভোটগ্রহণের আগে মৃত্যুবরণ করেন, তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচন বাতিল করবেন। তিনি বলেন, নতুন তফসিল ঘোষণা করতে হলে কমপক্ষে ১৫ দিন সময় দিতে হয়। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আর মাত্র সপ্তাহখানেক বাকি। ফলে এই সময়ের মধ্যে পুনরায় সব প্রক্রিয়া শেষ করে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব নয়।

শেরপুর জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাদল (৫১) গতকাল মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে তিনি মারা যান।

এ বিষয়ে ইসি মাছউদ বলেন, জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মৃত্যুর পর এই আসনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ এই মুহূর্তে নেই। আপিল ও বাছাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। নতুন তফসিলের বিষয়ে কমিশন আলোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানাবে।

নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ কেমন আছে—প্রশ্নের জবাবে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা মনে করি, নির্বাচনি পরিবেশ যথেষ্ট ভালো আছে। অবশ্যই বলব তুলনামূলকভাবে ভালো আছে।

ভোটের পরিবেশ ভালো রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা চেয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমরা সব রাজনৈতিক দলের কর্মী, তাদের নেতৃত্বের নিকট এবং সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আবেদন জানাই, তারাও একটা সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখার জন্য আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং তাদের পক্ষ থেকে যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার তারা সেটাই গ্রহণ করবে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচনি কার্যক্রমের সমন্বয় বিষয়ক সভা হয় আজ বেলা ১১টায়। সেখানে চারজন নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচনি কার্যক্রমের সমন্বয়বিষয়ক সভা সম্পর্কে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, মিটিংয়ে আমাদের সর্বশেষ প্রস্তুতি সম্পর্কে আমরা জাস্ট অবহিত হলাম।

নির্বাচনি বিধি ভঙ্গ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনমন’ ও দুই দলের শীর্ষ নেতাদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে কমিশন কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে কমিশনার মাছউদ বলেন, পুরো দেশে ৩০০ জন জজের সমন্বয়ে ৩০০টি ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং এডজুডিকেশন কমিটি কাজ করছে। তা ছাড়া অনেক এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছে। কাজেই আমরা মনে করি, যে কেউ যদি আচরণবিধি ভঙ্গ করেছে, এই ধরনের যদি অভিযোগ কেউ করেন, অনুগ্রহপূর্বক ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি এবং জুডিকেশন কমিটির কাছে আপনারা প্রতিকার চাইতে পারেন।

আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা বিভিন্ন জায়গায় বহু লোককে আচরণবিধি ভঙ্গের কারণে ইতিপূর্বে শাস্তি দিয়েছেন, জরিমানাও করেছেন।

যদি মোবাইল কোর্ট বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ নিজেরাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকে, সে বিষয়ে ইসির পক্ষ থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—জানতে চাইলে ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, যদি নির্বাচনে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তা নিজেই আচরণবিধি ভঙ্গ করেন বা তার ভেতরে পক্ষপাতিত্ব দেখা দেয়, সেক্ষেত্রেও যে কেউ ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি এবং এডজুডিকেশন কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, গুরুতর কোনো বিষয় কমিশন নিজেও আমলে নিতে পারে এবং একটা কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ নিতে পারে।

কোনো প্রার্থী যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা কোনো বিশেষ বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বা যেখানে যাওয়ার সুযোগ নেই সেখানে যদি যাওয়ার চেষ্টা করেন, সেটা আচরণ ভঙ্গ হয় কি না—জানতে চাইলে আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এই প্রশ্নটা খুব জটিল প্রশ্ন। কি ধরনের দুর্ব্যবহার, সেই দুর্ব্যবহার যদি আইনের কাঠামোতে আচরণবিধি ভঙ্গ বোঝা যায়, তাহলে নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, এটা ফ্যাক্টস টু ফ্যাক্টস, কেস টু কেস ভিত্তিতে বলতে হবে। একেবারে ইউনিফর্ম একটা কথা কিন্তু বলা যাবে না।

সম্প্রতি ঢাকা-১৭ আসনের এক প্রার্থীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে অপেশাদার আচরণের বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ইসি মাছউদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের বিষয়টি প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাহিনীর মনোবল ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়।