গত বছর ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড, নিহত ৮৫

২০২৫ সালে সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে ৮৫ জন নিহত ও ২৬৭ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে জানুয়ারিতে ২ হাজার ৭০৮টি, ফেব্রুয়ারিতে ২ হাজার ৮৮৫টি, মার্চে ৩ হাজার ৫২২টি, এপ্রিলে ৩ হাজার ৩৫টি, মে মাসে ২ হাজার ২০৯টি, নভেম্বর ২ হাজার ২৩৭টি এবং ডিসেম্বরে ২ হাজার ৭২৪টি আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, সারা দেশে ২৭ হাজার ৫৯টি আগুনের মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগে ৯ হাজার ৩৯২টি, বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত টুকরা থেকে ৪ হাজার ২৬৯টি, চুলা থেকে ২ হাজার ৯০৯টি, গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে ৯২০টি, গ্যাস সরবরাহ লাইন লিকেজ থেকে ৫৬২টি, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে ১২১টি, কেমিক্যাল বা রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে ৩৮টি, ছোটদের আগুন নিয়ে খেলার কারণে ৬০৮টি, উত্তপ্ত ছাই থেকে ৩৫৬টি, কয়েল থেকে ৪৯৩টি এবং আতশ বাজি/ফানুস/পটকা পোড়ানো থেকে ১০৯টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া সারা দেশে বাসা বাড়িতে মোট ৮ হাজার ৭০৫টি, খড়ের গাঁদায় ৩ হাজার ৯২২টি, দোকানে ১ হাজার ৮০০টি, হাট বাজারে ১০৬৭টি, শপিংমলে ৬১৭টি, পোশাকশিল্প প্রতিষ্ঠানে ৬৬৫টি, পোশাকশিল্প ব্যতীত কলকারখানায় ৬১৫টি, গ্যাস সিলিন্ডার দোকানে ৪৮৩টি, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ১২২টি, বহুতল ভবনের আগুন (৬ তলার ওপরে) ৭১টি, রেস্টুরেন্ট ও হোটেলে ১৫৫টি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ১৫২টি, সরকারি হাসপাতালে ৩৪টি, বেসরকারি হাসপাতালে ২৫টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৭২টি, পাট গুদাম-পাটকলে ১২২টি, কেমিক্যাল গোডাউন/দোকানে ৩৬টি, বস্তিতে ৯১টি, মসজিদে ২৫টি, মন্দিরে ৯টি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২৩টি এবং এসিতে ৬২টি আগুনের ঘটনা ঘটে।
পরিবহনে আগুনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাসে ১৫৩টি, বাস বাদে অন্যান্য যানবাহনে ২১৬টি, ট্রেনে ১০টি, লঞ্চে চারটি, জাহাজে দুটি এবং একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আনুমানিক ৫৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৭ হাজার ৮৬৪ টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আগুন নির্বাপণের মাধ্যমে ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ৬২ লাখ ১ হাজার ৯১৬ টাকার সম্পদ রক্ষা করেছে।
সারা দেশে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে গত বছর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ১৯২টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এর মাধ্যমে ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানকে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ৮টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।