logo

চাঁদার দাবিতে নবীন ফ্যাশনের ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

চাঁদার দাবিতে নবীন ফ্যাশনের ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে

চাঁদার দাবিতে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টরিতে হামলার অভিযোগ তুলেছে নবীন ফ্যাশন। এ সময় কর্মীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বুধবার (১ এপ্রিল) নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানা যায়।

পোস্টে বলা হয়, কেরানীগঞ্জে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজি ও সহিংসতার শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে গেল একটি  ফ্যাক্টরি। মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ছাত্রদলের হামলা, লুটপাট চেষ্টা এবং সুপারভাইজারকে মারধরের ঘটনায় প্রাণভয়ে চাকরি ছেড়েছেন ৯০  শ্রমিক।

 এতে আরও বলা হয়, গত আড়াই বছর ধরে ফ্যাক্টরিটির কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে চলে আসছিল। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হতো। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি দলীয় লোকজনকে চাঁদা দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা হলেও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে শ্রমিকদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। 

পোস্টে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, কোম্পানির অর্থের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা লাইসেন্স নিয়ে বৈধ ব্যবসা করেও এই জুলুমবাজদের হাত থেকে বাঁচতে পারছি না। যারা আজ জীবিকা হারিয়েছেন, তাদের জন্য শীঘ্রই বিকল্প ব্যবস্থার চেষ্টা করা হবে। 

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী সাইফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে আমাদের এলাকার এমপি আমান উল্লাহ আমান জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। এ ধরনের কোনো ঘটনার কথা আমি এখন পর্যন্ত শুনিনি। যদি কেউ নির্দিষ্টভাবে নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক পাভেল শিকদার এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘটনাটি আমার এলাকার মধ্যে পড়ে না। এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তবে কেউ অভিযোগ করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে এমনটা দেখছেন উল্লেখ করে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এলাকার লোকজন ওই কারখানা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন এবং একটি ঘরের মধ্যেই তারা কারখানা তৈরি করছেন যা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়ে তৈরি করা হয়নি। পরে গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তিনি একটি অভিযোগ নিয়ে থানায় আসেন। এই বিষয়টি নিয়ে যেহেতু আলোচনা সমালোচনা চলছে তাই অভিযোগ গ্রহণ করার আগে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে এবং কারখানা তৈরি করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যে ছাড়পত্রের প্রয়োজন তা দেখাতে পারলে তার কারখানা খুলে দেওয়া হবে। কারখানা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের আপত্তি আছে। আর চাঁদা দাবির বিষয়ে তদন্ত চলছে।