logo

রূপপুরের আটকে থাকা ইউরেনিয়াম আসছে ১ অক্টোবর থেকে

রূপপুরের আটকে থাকা ইউরেনিয়াম আসছে ১ অক্টোবর থেকে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: এশিয়া পোস্ট

আকাশসীমার অনুমতি নিয়ে জটিলতা কাটায় ১ অক্টোবর থেকে রাশিয়া থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি বা ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে আসা শুরু করবে। এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইউরেনিয়ামবাহী একটি কার্গো ফ্লাইট বাংলাদেশে আসার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় আকাশসীমার অনুমতি না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত হয়।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের খবরে বলা হয়েছে, প্রথম ইউনিটের জন্য দুই ফ্লাইটে ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি জ্বালানি অ্যাসেম্বলি বাংলাদেশে আনার কথা রয়েছে।

জানা গেছে, রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে ইউরেনিয়ামের চালান বাংলাদেশে আনা হয়। এ রুটের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় ২৪ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত ফ্লাইটটি আটকে যায়। পরে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ায় ১ অক্টোবর থেকে জ্বালানি আনার নতুন সূচি করা হয়েছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, আকাশসীমার অনুমতি নিয়ে জটিলতা কেটে যাওয়ায় ১ তারিখ থেকে জ্বালানি আসছে।

তিনি জানান, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা ভালভের জটিলতাও কেটে গেছে। ইতোমধ্যে ৯টি ভালভ মেরামত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে দ্রুতই দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনের দিকে যাবে।

প্রথম ইউনিটের প্রয়োজনীয় জ্বালানি এরই মধ্যে রাশিয়া থেকে এনে রিঅ্যাক্টরে লোড করা হয়েছে। ওই জ্বালানির একটি সাইকেল ১২ মাসের। নির্দিষ্ট সময় পর জ্বালানির একটি অংশ সরিয়ে নতুন জ্বালানি দিয়ে রিঅ্যাক্টর পুনরায় লোড করতে হবে।.

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। দুটি ইউনিটই চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের পাশাপাশি আমদানিকৃত জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা অনেকাংশে কমে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রূপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি ও গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি সঞ্চালন কাঠামোর কমিশনিং কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তবে দুটি ইউনিটের পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ নিরাপদে সঞ্চালনের জন্য জাতীয় গ্রিড ও সঞ্চালনব্যবস্থার আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।