প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য

এশিয়া পোস্টে গত ১৯ আগস্ট ‘অনুদানের হাসপাতালে করপোরেট ব্যবসা’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, জাকাত-অনুদানের ৮ কোটি টাকা হাসপাতাল থেকে নিয়েছে আহ্ছানিয়া মিশন; এমন তথ্য সঠিক নয়। কেননা, ডোনারদের (দাতা) কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থ হাসপাতালের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ডোনেশন ও জাকাত ফান্ড হিসেবে জমা করা হয়।
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে ডোনেশনের টাকা এফডিআর করা হয়। তবে জাকাত ও ডোনেশনের অর্থ এবং এফডিআরের মাধ্যমে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য ব্যয় করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের মাসিক আয় ৩০ কোটি টাকা নয়। মাসিক আয় আনুমানিক ১২ কোটি টাকা।
টেস্ট ও ভর্তি ফির বিষয়ে হাসপাতালের বক্তব্য, এগুলো আশপাশের বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে মিল রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কিছু টেস্টের দাম অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। কেবিন ও ওয়ার্ডে ভর্তির ক্ষেত্রে যে কোনো পরিমাণ অর্থ জমাদানের মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়।
ওষুধ কেনার বিষয়টি ক্রয় কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয় উল্লেখ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, সরাসরি সংশ্লিষ্ট ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির নির্ধারিত মূল্যের ওপর ডিসকাউন্ট দেওয়ার পর ক্রয়কৃত ওষুধ বাজারদরে বিক্রি করা হয়। এ ক্ষেত্রে রোগীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার সুযোগ নাই।
আইসিইউর ভেন্টিলেটরের বিষয়ে হাসপাতালের বক্তব্য, বর্তমানে আইসিইউতে ১০টি শয্যা রয়েছে; যার মধ্যে ৪টি ভেন্টিলেটর সচল আছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি দুজন রোগীর জন্য একটি ভেন্টিলেটর প্রয়োজন। সেই মোতাবেক আরও একটি ভেন্টিলেটর কেনার প্রক্রিয়া চলমান।
হাসপাতালের চারটি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে তিনটিই পুরোনো হয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সকাল ৭টা হতে মাঝরাত পর্যন্ত রেডিওথেরাপি চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান থাকে। প্রতিদিন ২৫০ জনের বেশি রোগী রেডিওথেরাপি চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনটি মেশিন দিয়ে বেশিসংখ্যক রোগীকে একসঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
অদক্ষ নার্সের বিষয়ে হাসপাতালের বক্তব্য, নিয়োগসংক্রান্ত কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়। নার্সিং ডিপ্লোমা ও ডিএসসি ডিগ্রিধারী, অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্তরাই এখানে নিয়োগ পান।
হাসপাতালের তহবিল ফ্যাশন হাউস ও হজ এজেন্সিতে ব্যবহারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, ফ্যাশন হাউস অনেক আগেই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হজ এজেন্সি আছে। কিন্তু এটি হাসপাতালের অর্থ দিয়ে করা হয়নি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য
রোগী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রকাশিত খবরে প্রতিবেদকের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই।


