মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, ৪৮ ঘণ্টায় মূলহোতা গ্রেপ্তার

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মোজাম্মেল হক ওরফে কবির (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মামলা দায়েরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নোয়াখালীর সুধারাম থানার গৌরীপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআই সদর দপ্তর থেকে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার তদন্তের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হক পিবিআই, সিআইডি ও ডিবি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে বিভিন্ন মামলার বাদীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তাদের পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতেন।
এ ঘটনায় সংস্থাটির চট্টগ্রাম জেলার এসআই মো. আবু সুফিয়ান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা এক প্রতারকের বিরুদ্ধে রাউজান থানায় মামলা করেন। ২৩ সেপ্টেম্বর দায়ের করা মামলাটি পরে পিবিআই চট্টগ্রাম জেলা অধিগ্রহণ করে তদন্ত শুরু করে বলে জানায় পিবিআই।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবি চন্দ্র দাশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা তথ্য ও বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণের মাধ্যমে মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোজাম্মেল হক আগে ইউনিলিভার গ্রুপে চাকরি করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর চাকরি হারিয়ে তিনি আদালতে যাতায়াত শুরু করেন এবং মুহুরি হিসেবে কাজ করতে থাকেন। এ সময় চক্রের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে বিভিন্ন মামলার বাদীর মোবাইল নম্বর এবং মামলার আরজির কপি সংগ্রহ করতেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই আরও জানায়, একটি সিআর মামলার বাদীর সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা পরিচয়ে যোগাযোগ করে তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার আশ্বাস দেন মোজাম্মেল। পরে গাড়ি ভাড়া ও তদন্ত খরচের কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেন।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোজাম্মেল প্রতারণার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা এবং এ ধরনের আরও অপরাধের ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
