logo
Advertisement

ফিডিং কর্মসূচিতে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামবে: ববি হাজ্জাজ

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ফিডিং কর্মসূচিতে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার শূন্যে নামবে: ববি হাজ্জাজ
দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মতবিনিময় সভায় কথা বলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, প্রতিটি শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রথমে তাকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতি পূরণ ও শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী পরিবেশ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Advertisement

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং তাদের সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা। স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এ লক্ষ্য অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন এবং প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সাফল্য শুধু কতজন শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং এর মাধ্যমে কতজন শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, ঝরে পড়ার হার কতটা কমছে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহ কতটা বাড়ছে—এসব বিষয় দিয়ে কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য মূল্যায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, এ কারণে কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে বাস্তব ফলাফল যাচাই ও নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। ২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভুল খুঁজে কাউকে দোষারোপ করা সরকারের উদ্দেশ্য নয়। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত তা সমাধান করা যায়, সেটি চিহ্নিত করাই মূল লক্ষ্য।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, শিশুবান্ধব ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশু যাতে মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পায়, সেটিও নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা।

এ ছাড়া দিনাজপুর জেলার প্রায় ৪৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।