সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদোন্নতির নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি-পদোন্নতির নামে প্রতারণা করে আসা চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—এম আমিনুর রহমান শান্ত (৪৪) ও নিলুফা সুলতানা (৫৬)। এর মধ্যে নিলুফা সুলতানা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
শুক্রবার (২২ মে) ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
এতে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব কামরুল হাসান গত ২০ মে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, একটি চক্র বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করছে। তারা নিজেদের মন্ত্রণালয়ের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি বা প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে এবং হোয়াটসঅ্যাপে নানা ধরনের বার্তা পাঠিয়ে কর্মকর্তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করছে।
অভিযোগ পাওয়ার পর ডিএমপি কমিশনার বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম গোপন অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তে উঠে আসে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
ডিবি কর্মকর্তারা জানান, তদন্তের একপর্যায়ে চক্রটির মূল হোতা হিসেবে এম আমিনুর রহমান শান্তর নাম সামনে আসে। পরে বুধবার (২০ মে) রাতে হাতিরঝিল থানার পশ্চিম রামপুরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও একাধিক সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শান্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তার ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও যোগাযোগের তথ্য বিশ্লেষণ করে নিলুফা সুলতানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর পৃথক অভিযানে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চক্রটি সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়ন ও বদলির বিষয়ে প্রভাব খাটানোর সক্ষমতা রয়েছে। এমন ধারণা দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করত। অনেক ক্ষেত্রে তারা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ তথ্য জানার ভান করেও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করত। এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় একটি নিয়মিত মামলা হয়েছে।
ডিবি জানিয়েছে, প্রতারক চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



