২০ হাজার টাকায় কন্ট্রাক্ট, হামলার নির্দেশ আসে মালয়েশিয়া থেকে: র্যাব

রাজধানীর মহাখালী জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. আহমেদ হোসেনের ওপর হামলা টেন্ডার ইস্যুতে হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল দুপুরে) রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মহাখালী ক্যানসার হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক ডা. আহমদ হোসেনের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তার হাত ও পিঠে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে জাতীয় ক্যানসার হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় অজ্ঞাতনামা ৮-১০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, হামলার পরপরই গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র্যাব-১ ও সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা যৌথভাবে অভিযান চালায়। অভিযানে দক্ষিণখান, বাড্ডা ও গুলশান এলাকা থেকে শরিফুল আলম করিম, আমিনুল ইসলাম কালু, সাজ্জাদ বদি, সালাউদ্দিন এবং আরিফুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালের একটি টেন্ডারকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একটি পক্ষ ‘রুবেলের ইএমই ট্রেডার্স’ এবং অন্যটি ‘মোনায়েম গ্রুপ’। এই দ্বন্দ্ব থেকেই ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়োগ করে হামলা চালানো হয়।
র্যাবের দাবি, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রুবেল নামের একজন এই হামলার নির্দেশ দেন। তার পক্ষে দেশে থাকা শরিফুল আলম করিমসহ অন্যরা হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করে। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি হত্যার উদ্দেশ্যে নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শনের জন্য করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ঘটনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যা দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক হয়েছে। তবে মূল পরিকল্পনাকারী রুবেল টেন্ডার কমিটির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেনি র্যাব।
সোমবার (২০ এপ্রিল) অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় ডা. আহমেদ হোসেনকে ২ থেকে ৩ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হামলা করে। এ সময় তার ডান হাত ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়।