logo

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ/‘মামলাবাজ’ সেই বিচারক বরখাস্ত

‘মামলাবাজ’ সেই বিচারক বরখাস্ত
মো. আরিফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।

এর আগে, ‘গাজীপুরে মার্কেট দখল নিতে বিচারকের মামলাবাজি’ ও ‘বিচারকের ১৮ মামলায় জিম্মি দেড়শ ব্যবসায়ী’ পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করে এশিয়া পোস্ট।

এরপর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য পরামর্শ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। কোর্টের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ১১ অনুযায়ী এবার তাকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হলো।

আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, শরীয়তপুরের সাবেক সিনিয়র সহকারী জজ (পরবর্তীতে ঢাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) বর্তমানে লালমনিরহাটের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ২ (ক) ও ২ (চ) অনুযায়ী যথাক্রমে, ‘অদক্ষতা’ ও ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে ০২/২০২৬নং বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং যেহেতু, তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও অনুসন্ধানের স্বার্থে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ প্রদান করেছেন; সেহেতু, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা, ২০১৭-এর বিধি ১১ অনুযায়ী তাকে চাকরি হতে সাময়িক বরখাস্ত (Suspend) করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি মোতাবেক খোরাকি ভাতাপ্রাপ্ত হবেন।

যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে জারি করা প্রজ্ঞাপন।
যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আরিফুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে জারি করা প্রজ্ঞাপন।

এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজীপুরের একটি মার্কেটের মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বিচারক মো. আরিফুল ইসলাম সোহেলের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের হয়রানিসহ একের পর এক মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠে। এ বিরোধের ঘটনায় বিচারকের আত্মীয় (চাচা শ্বশুর) তৌহিদুল ইসলাম মজিবরসহ প্রায় ১৫০ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ছয়টি জেলায় ১৮টি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, ঘটনাটির সূত্রপাত গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার হাজী হোসেন পাইকারি মার্কেটের জমির মালিকানা নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকে। মজিবরের অভিযোগ, ২০১১ সালে তার বাবার মৃত্যুর পর থেকেই মার্কেটের দখল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। পরবর্তীতে বিচারক আরিফুল ইসলাম সোহেলের সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ে হলে বিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মার্কেটের দখল ও ভাড়া আদায়কে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলায় একাধিক মামলা করা হয়েছে।

তবে বিচারক আরিফুল ইসলাম সোহেল সেই সময় অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি পারিবারিক সম্পত্তির বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার স্ত্রীও জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকার কথা জানান।