বিআরটিসি বাস ইজারা প্রথা বন্ধের দাবি রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাস ইজারা দেওয়ার প্রথা বন্ধের দাবি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
রোববার (৭ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাসিনা বেগম, ড. কামরান উল বাছেত, আব্দুল্লাহ মো. ফেরদৌস খান এবং নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান এ দাবি জানান।
তারা বলেন, বিআরটিসি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান। জনসাধারণকে পরিবহন সেবা প্রদানের জন্য জনগণের করের টাকায় এই প্রতিষ্ঠানের বাস কেনা হয়। এসব বাসের কাঠামো এবং সাশ্রয়ী ভাড়া যাত্রীবান্ধব। কিন্তু বিআরটিসি জনসাধারণকে প্রত্যাশিত পরিবহন সেবা প্রদান না করে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইজারা প্রদান করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ। এই ইজারা দেওয়া বাসগুলো সকালে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী বা স্টাফদের গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে সারা দিন অলস পড়ে থেকে। বিকালে আবার গন্তব্যে ফেরে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত যাত্রীসাধারণ বিআরটিসির পরিবহন সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জানিয়ে তারা বলেন, রাজধানীর সড়কে অগণিত নারী, শিশু, বয়স্ক এবং কর্মজীবী মানুষ বেসরকারি জরাজীর্ণ বাসে অবর্ণনীয় কষ্ট করে যাতায়াত করছেন।
সংগঠনটির দাবি, বিআরটিসির বাস এভাবে ইজারা দেওয়ার আইনগত ভিত্তি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।
সংগঠনটির মতে, এটা পাবলিক প্রোপার্টি। লোকসান বন্ধ করার পদ্ধতি অবলম্বন করে যাত্রীসেবা পরিচালনা করতে হবে। লোকসানের অজুহাতে ইজারা দিয়ে জনসাধারণের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের তাগিদে ইজারা নেয়, সেসব প্রতিষ্ঠান বেসরকারি বাস ইজারা নিতে পারে বা নিজস্ব অর্থায়নে কিংবা সরকারি ঋণে বাস ক্রয় করতে পারে।
তাদের দাবি, বিআরটিসির অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেসরকারি বাস মালিকদের স্বার্থে নিজেদের পরিবহন সেবা সংকুচিত করতে অল্পসংখ্যক বাস যাত্রীসেবায় পরিচালনা করেন। অধিকাংশ বাস ইজারা দেন এবং অসংখ্য বাস ইকোনোমিক লাইফ শেষ হওয়ার আগেই কৌশলে অচল করে ডাম্পিক করেন। ভাঙারি বা স্ক্র্যাপ হিসেবেও বিক্রি করেন।
তারা জানান, বিপুল টাকায় কেনা ভলভো আর্টিকুলেটেড বাস, ভলভো এসি/ননএসি বাস—যেগুলোর ইকোনোমিক লাইফ এখনো শেষ হয়নি—রাজধানীর সড়কে সেসব বাসের হদিস নেই।
বিআরটিসিতে কোনো স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নেই জানিয়ে তারা বলেন, কয়েক বছর পরপর নতুন বাস ক্রয় করে এবং কিছুদিন চলার পর সড়ক থেকে বাসগুলো উধাও হয়ে যায়। এসব বাসের খোঁজ নিতে হবে।
সরকার বিআরটিসির মাধ্যমে পরিবহন সক্ষমতা অর্জন করতে পারলে বেসরকারি বাস মালিকরা ভাড়া নৈরাজ্য এবং সড়কে অব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারতেন না বলে দাবি সংগঠনটির।
তাদের দাবি, বিআরটিসির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেসরকারি বাস মালিকদের নৈরাজ্য সৃষ্টির এই কাজে সহযোগিতা করেন। এ কারণেই বিআরটিসি জনসাধারণকে প্রত্যাশিত পরিবহন সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
