আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও হয় না অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের হালনাগাদ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তালিকায় প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫২৩টি এবং শিশুদের জন্য ৩৭৪টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ থাকলেও বাংলাদেশে এই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১১৭টিতে। আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও প্রতি দুই বছর পরপর এই তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘পাবলিক ইন্টিগ্রিটি নেটওয়ার্ক ফর এভিডেন্স অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি’ (পাইনেট) আয়োজিত ‘রোগীর নাগালে ওষুধ, উৎপাদকের টেকসইতা: ভারসাম্যপূর্ণ ওষুধনীতির সন্ধানে’ শীর্ষক জাতীয় নীতি সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ওষুধনীতির উদ্দেশ্য শুধু সর্বনিম্ন মূল্য নির্ধারণ নয়। এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ মূল্য নিশ্চিত করা উচিত, যা সাধারণ রোগীর ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে এবং একই সঙ্গে উৎপাদকের জন্য মানসম্মত ওষুধ তৈরি করা টেকসই হবে।
সংলাপে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ২০২৩ সালের ঔষধ ও কসমেটিকস আইনের ১৩ ধারা অনুযায়ী দুই বছর পরপর অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা হালনাগাদ করার কথা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। এর আগে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ৭৩৯টি ওষুধের প্রাথমিক তালিকা থাকলেও তা কমিয়ে ১১৭টিতে রূপান্তর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী ‘জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ’ গঠন না করে টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্তকেও তিনি অসাংবিধানিক ও হাইকোর্টের রায়ের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
এ সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও মিশন প্রধান ডা. মামুনুর রহমান মালিক জানান, শুধু তালিকা তৈরি করলেই চলবে না; সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (ইউএইচসি) নিশ্চিত করতে ওষুধের প্রাপ্যতা, ক্রয়ক্ষমতা ও মান রক্ষা করা জরুরি। তিনি একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন ড্রাগ রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ গড়ে তোলার পাশাপাশি নকল ওষুধ শনাক্তকরণ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণে ‘ফার্মাকোভিজিল্যান্স’ ব্যবস্থা জোরদারের তাগিদ দেন। একই সঙ্গে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ঝুঁকি এড়াতে যুক্তিসঙ্গত ওষুধ ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের তুলনায় দেশের এসেনশিয়াল মেডিসিন লিস্ট অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডকে (ইডিসিএল) শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক কারণে বন্ধ থাকা গোপালগঞ্জ ভ্যাকসিন প্ল্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করা উচিত।



