আট জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত

সিলেট, নেত্রকোনা, কুষ্টিয়া, চাঁদপুর, গাইবান্ধা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও বগুড়ায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছে। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। রোববার (৩১ মে) ভোর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নেত্রকোনা
নেত্রকোনায় বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন। রোববার দুপুর ১২টায় নেত্রকোনা-ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চল্লিশা বাইপাস মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নের আমলী কেশবপুর গ্রামের নুরজাহান বেগম (৪০), তার মেয়ে ইতি (১৮) ও স্মৃতি (১২)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ থেকে রুবি এন্টারপ্রাইজের একটি বাস চল্লিশা বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ইতি ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় নুরজাহান বেগম ও স্মৃতিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ঘাতক বাসটিকে আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছেন। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সিলেট
সিলেটের ওসমানীনগরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী একটি বাসে অপর বাসের ধাক্কায় দুজন নিহত হয়েছেন। রোববার ভোরে উপজেলার তাজপুর বাজারের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন ‘যাতায়াত’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল (৩০) ও তার সহকারী (হেলপার) ইমন (২০)। চালক সোহেল নরসিংদী সদর উপজেলার শাহী প্রতাপ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। ইমনের ঠিকানা জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, যাতায়াত পরিবহনের সিলেটমুখী একটি বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একই দিকে যাওয়ার পথে ‘সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য’ পরিবহনের দ্রুতগামী একটি বাস পেছন থেকে এসে বাসটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে প্রাণ হারান বাসের চালক সোহেল ও হেলপার ইমন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়ায় সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়। এ সময় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের তালবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চৌড়হাস হাইওয়ে থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, সেনাবাহিনীর রিক্রুট সদস্যদের নিয়ে একটি বাস বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট থেকে খুলনা ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে দুই বাসের বহু যাত্রী আহত হন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ইকবাল হাসান জানান, ৩২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গাইবান্ধা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে খাদে পড়ে রিক্তা বেগম নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ যাত্রী।
রোববার সকালে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কে উপজেলার মহদীপুর ইউনিয়নের ঠুটিয়া পাকুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রিক্তা বেগম গাইবান্ধা সদর উপজেলার সাহার বাজার এলাকার আইজল হকের স্ত্রী।
পলাশবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ কুমার জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
চাঁদপুর
চাঁদপুরে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ছিটকে পড়ে মো. জোহা নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হয়েছে। অন্যদিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে বাসচাপায় বিল্লাল হোসেন নামের এক পথচারী নিহত হয়েছেন।
রোববার দুপুর দেড়টার দিকে চাঁদপুর-রায়পুর সড়কের ইসলামপুর গাছতলা বাদামতলী এলাকায় দুর্ঘটনায় মো. জোহায় নিহত হয়। এ সময় আহত হয়েছে মোটরসাইকেলের আরোহী মো. সাজ্জিল।
চাঁদপুর সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু দত্ত বলেন, মরদেহ সুরতহাল করা হয়েছে। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আইনি ব্যবস্থা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
অন্যদিকে রোববার সকালে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজিগঞ্জ পৌরসভার টোরাগড় গ্রামের মনির ফিলিং স্টেশন এলাকায় দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় বিল্লাল হোসেনের। নিহত বিল্লাল হোসেন হাজীগঞ্জ বাজারের ডক্টরস্ সিটি স্ক্যান হাসপাতালের নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হাজীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মান্নান জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত বাস দুটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
যশোর
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মনিরামপুর থানার রাজগঞ্জ-কাশিমনগর সড়কের তালতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ইসমাইলে ছেলে রাকিব (২৭) এবং কামরুজ্জামানে ছেলে মেহেদী হাসান (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিব ও মেহেদী হাসান একই মোটরসাইকেলে রাজগঞ্জ বাজার থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। পথে তালতলা এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা আরেকটি মোটরসাইকেলকে ওভারটেক করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লাগে। দুর্ঘটনায় দুজনই গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
মণিরাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত দুই যুবকের মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা মহাসড়কের জয়রামপুর কাঁঠালতলা নামক স্থানে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মেরাজ হোসেন (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় রাকিব হোসেন (১৪) গুরুতর আহত হয়। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মেরাজ হোসেন উপজেলার বড় দুধ পাতিলা গ্রামের আবু মুসার ছেলে এবং দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র।
পুলিশও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার মেরাজ হোসেন ও তার বন্ধু রাকিব হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটর সাইকেলযোগে দামুড়হুদায় যাওয়ার পথে জয়রামপুর কাঁঠালতলা নামক স্থানে পৌঁছায়। এ সময় ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হলে মেরাজ হোসেন ও রাকিব হোসেন গুরুতর আহত হয়। তাদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর মেরাজ হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বগুড়া
বগুড়ার শেরপুরে বাসের ধাক্কায় আলহাজ আলী (২৩) নামের এক সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। রোববার বেলা ২টার দিকে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ফ্লাইওভার ব্রিজের পশ্চিম পাশে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলহাজ আলী সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার লাউতা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। তিনি শেরপুরের মির্জাপুর বাজারে একটি দোকানে কর্মচারীর কাজ করতেন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. ফয়সাল আহম্মেদ জানান, বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের পরিবারের সদস্যদের কোনো অভিযোগ না থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

