চাহিদামতো বোয়িং কিনব, গোপন চুক্তির কিছু নেই: হুমায়ুন কবির

যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বোয়িং কেনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে গোপনীয়তার কিছুই নেই।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান বিষয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রুট বাড়ানোর জন্য আমরা আরও বিমান কিনব। কাউকে সন্তুষ্ট করার জন্য বিমান কেনা হয়নি। এ ছাড়া ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর সংক্ষিপ্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশ্নটাও একটা অদ্ভুত টাইপের প্রশ্ন। এখানে সরকারপ্রধানরা দুই দিন থাকেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী চার দিন ছিলেন। এ সময়ে প্রায় ৩০টি বৈঠক করেছেন, এগুলো আনপ্রেসিডেন্টেড।
তিনি আরও বলেন, চার দিন পরে দেশে আসবেন না, তো কোথায় যাবেন? ইউএনের প্রোগ্রামের বাইরে তার আর কোনো ইন্টারেস্ট নেই, তিনি দেশে ফিরে আসছেন।
জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী দলীয় বক্তব্য দিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন। এটা কি বিএনপির জন্য, না জামায়াতের জন্য, না অন্য কারও? এগুলো না বুঝে, না পড়ে, না শুনে শুধু বলা ঠিক নয়।
প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। নতুন সরকারের জন্য এটি ছিল জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রথমবার বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এর মধ্য দিয়ে একই পরিবারের দুই প্রজন্মের তিনজন প্রধানমন্ত্রীর এই বিশ্বমঞ্চে প্রতিনিধিত্বের অনন্য ইতিহাস রচিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করায় বাংলাদেশের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।
এবারের চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, সাতটি উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে দাবি করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্বপরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন সভা ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী এই সফরের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান ও আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন।

