দুদকের চেয়ারম্যান হতে পারেন সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেন

বিএনপির পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা বিশেষ জজ আদালত-৩ এর সাবেক বিচারক মোতাহার হোসেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সদ্য পদত্যাগ করা আবদুল মোমেন দুদকের চেয়ারম্যান থাকার সময়ই বিএনপির পক্ষ থেকে সাবেক বিচারক মোতাহারকে কমিশনের চেয়ারম্যান বানাতে চেয়েছিল। তবে সে সময় একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার সেই সুযোগ আর বিএনপি হাতছাড়া করতে চান না।
জানা গেছে, মোতাহার হোসেন ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির কথিত মামলার রায় ঘোষণা করেন। কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রায়ে তিনি তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দেন। সে সময় তারেক রহমানকে সাজা দিতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানাবিধ চাপ থাকলে তা পরোয়া করেননি বিচারপতি মোতাহার হোসেন। মিথ্যা রায় লিখতে রাজি না হওয়ায় একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তাকে পিস্তল দেখিয়ে হত্যারও হুমকি দেন। পরে সরকারের পক্ষ থেকে রায় লিখে দিলেও মোতাহার হোসেন এজলাসে নিজের লেখা রায়-ই পড়েন। এরপর সরকারের চাপে জীবনের নিরাপত্তায় তিনি আত্মগোপনে চলে যান। একপর্যায়ে পাড়ি জমান বিদেশে। গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সরকারের পতন হলে বিচারপতি মোতাহার হোসেন দেশে ফেরেন। সে সময়ই বিএনপির পক্ষ থেকে বিচারপতি মোতাহার হোসেনকে দুদকের চেয়ারম্যান বানানো প্রস্তাব ছিল। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের একজন প্রভাবশালী উপদেষ্টার ঘোর আপত্তির কারণে সেটি সম্ভব হয়নি।
সংসদ অধিবেশনের আগেই কমিশন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বসছে আগামী ১২ মার্চ। প্রথম অধিবেশনের আগেই দুদকের কমিশন গঠন করা হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১০ মার্চ দুদকের কমিশন গঠন করা হতে পারে।
যা আছে আইনে
কীভাবে দুদকের কমিশন গঠন করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা আছে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনে। সেখানে কমিশন গঠনের আগে একটি সার্চ কমিটি গঠন করার কথা বলা হয়েছে। সার্চ কমিটির সদস্য হবেন পাঁচজন। সেখানে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান ও সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব। বাছাই কমিটি নামের একটি তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেবেন। সেখান থেকে রাষ্ট্রপতি তার পছন্দমতো কমিশন গঠন করবেন।
দুদক আইনের অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী পাঁচজনের কমিশনের কথা বলে হয়েছে। সেখানে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন। শেষ সংশোধনীতে একজন নারী কমিশনার ও তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে দক্ষ একজন কমিশনার রাখার কথা বলা হয়েছে।