৫ বছরের মধ্যে উন্নত জীবন পাবে প্রান্তিক মানুষ: প্রধানমন্ত্রী

আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ উন্নত জীবন পাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের তথ্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম। বিকেল সাড়ে ৩টায় সংসদ অধিবেশন চলা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তরের জন্য বরাদ্দ করা ৩০ মিনিট শুরু হয়। তিনি সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
ইশতেহারে দেওয়া একের পর এক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভিাগ আগামী ১৮০ দিন, আগামী অর্থবছর এবং আগামী পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য এরই ভেতর বিভিন্ন প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে ১৩টি জেলায় ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সাথে কৃষকের সার্বিক সুরক্ষা প্রদানের জন্য সরকার কৃষক কার্ড প্রদানের উদ্যোগও গ্রহণ করেছে।
বিভিন্ন প্রকল্পের তথ্য জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের কারণে মূল্যস্ফীতি হবে না এবং অর্থনীতি সচল ও শক্তিশালী হবে। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অংশ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে এক কোটি চারা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থ বছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি আওতায় আনা হবে। প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ করার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা যেহেতু প্রতি মাসে এটিকে এক্সটেন্ড (বৃদ্ধি) করতে থাকব, অর্থাৎ অধিক সংখ্যক নারী কৃষক কার্ড পাবেন, অধিক সংখ্যক কৃষক কৃষক কার্ড পাবেন। একবারে সবাইকে দিচ্ছি না; পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষে এটি একবারে দেওয়া সম্ভব না করা। সে জন্য প্রতি বছরই আমরা বাজেটে স্যাংশন বাড়াব। প্রতি বছরই আমরা বাজেটে টাকা এলট (বরাদ্দ) করব। এভাবে পর্যায়ক্রমিকভাবে ধীরে ধীরে এগোব।
তিনি জানান, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার ৩টি সিটি করপোরেশন/ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি নারী প্রধান পরিবারকে ভাতা প্রদান করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচি আওতায় আনা হবে। আগামী চার বছরের মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে।