logo

বাকি জেলাগুলোতে হামের টিকা দেওয়ার তারিখ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বাকি জেলাগুলোতে হামের টিকা দেওয়ার তারিখ জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অতি ছোঁয়াচে হাম থেকে সুরক্ষায় আজ থেকে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে সরকার। আপাতত বেশি সংক্রমিত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি, ময়মনসিংহ ও বরিশাল এবং ৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলায় হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে। 

রোববার (৫ এপ্রিল) ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, হাম রোগের ভয়াবহতা কোনোভাবে করোনা ভাইরাসের চেয়ে কম নয়। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। করোনার মতো হামও কন্ট্রোলে আনা সম্ভব।

এদিকে, গাজীপুরে হামের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, টিকাদান কর্মসূচি চলবে এবং এতে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না। সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। যত বেশি শিশু এই টিকার আওতায় আসবে আমরা তত বেশি নিরাপদ থাকব।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। একটি শিশুও টিকার বাইরে থাকবে না। যারা টিকা আজকে দিচ্ছেন তারা বাড়ি গিয়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনের শিশুদেরকে পাঠিয়ে দিবেন টিকা নেওয়ার জন্য।

বেশি সংক্রমিত যে ৩০ উপজেলায় টিকা দেওয়া হচ্ছে 

ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ, সদর, যশোর সদর এবং নাটোর সদর উপজেলা।

হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।

তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।

যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?

ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র‌্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।

তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে- তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।