৬ মাস বয়সেই টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা

দেশজুড়ে হঠাৎ শিশুদের মাঝে হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। চলতি মাসে এ রোগে ৮০ আক্রান্ত এবং অন্তত ১৪ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের হাতে পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান না থাকায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সবচেয়ে আশঙ্কার খবর—চলতি মাসে হামে মারা যাওয়া ১৪ শিশুর মধ্যে ৩৫ শতাংশের বয়স ৯ মাসেরও কম। অথচ দেশের প্রচলিত পদ্ধতি অনুযায়ী, অত্যন্ত ছোঁয়াচে এ রোগ থেকে রক্ষার জন্য শিশুর ৯ মাস বয়সে তাকে প্রথম টিকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং একের পর এক প্রাণহানি ঘটছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। হামের টিকা দেওয়ার বয়সসীমা জরুরিভিত্তিতে কমানোর কথা চলছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, যেহেতু ৯ মাস বয়সের আগেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, তাই হামের টিকাগ্রহণের বয়স কমিয়ে ৬ মাস করার চিন্তা করছে সরকার।
সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিই) উপপরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ৯ মাসের আগেই কেন শিশুর হাম হচ্ছে সেটি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার টেকনিক্যাল কমিটির সভা রয়েছে। সেখানে টিকাগ্রহণের বয়সসীমা ৬ মাস করা হতে পারে।
সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. আহমেদ নওশের আলম এশিয়া পোস্টকে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হামের টিকার দেওয়ার বয়সসীমা একেক রকম। এটা সংশ্লিষ্ট দেশের রোগের ধরন ও প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে ৩ মাস, ৬ মাস কিংবা ১২ মাস বয়সে দেওয়া হয়ে থাকে। আমাদের নাইট্যাগ হয়তো এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, হামের টিকা সংগ্রহের জন্য এরই মধ্যে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া রোগীর ভিড় সামাল দিতে রাজধানীর পাঁচটি ও ঢাকার বাইরের ১০টি বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ইউনিট খোলার ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা দিলেই হাম থেকে শতভাগ সুরক্ষা মিলবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতির কারণ ও উত্তরণের উপায় খুঁজতে হাম নিয়ে নতুন করে গবেষণার বিষয়ে জোর দিয়েছেন তারা। আক্রান্ত শিশুর ব্যাপারে বিশেষ নিরাপত্তা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।