Advertisement

ভোটের উত্তাপ পেরিয়ে রাজধানীতে ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দ

এশিয়া পোস্ট নিউজ
ভোটের উত্তাপ পেরিয়ে রাজধানীতে ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি। আমেজ কাটেনি এখনও। তবে নির্বাচনের সময়ের টানা ব্যস্ততা ও বাড়তি সতর্কতার পর রাজধানীতে ফিরছে স্বাভাবিক ছন্দ। রাস্তাঘাটে প্রচারণার চিহ্ন মুছে যাচ্ছে, দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ছে। ভোট দিয়ে কর্মজীবীরা ফিরতে শুরু করেছেন।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ক্লাস শুরু হবে। রাজনৈতিক উত্তাপ পুরোপুরি না থামলেও মানুষের মনোযোগ ফিরছে স্বাভাবিক জীবনযুদ্ধে।

সরকারি অফিসে দীর্ঘ ছুটি কাটিয়ে স্বাভাবিক কর্মপরিবেশে ফিরতে শুরু করেছেন কর্মীরা। নির্বাচনের ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটিতে ছিলেন।

নির্বাচনের প্রভাব ছিল শিল্পাঞ্চলেও। গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১০ ফেব্রুয়ারি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। তাছাড়া নির্বাচনের জন্য ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ছুটি ছিল। টানা এই ছুটিতে অনেকেই ভোট দিতে বাড়ি গিয়েছিলেন। যার ফলে শিল্পাঞ্চল এলাকাগুলোও ছিল প্রায় শুনশান।

নির্বাচনি ছুটির পর পরিবহন খাতেও স্বাভাবিকতা ফিরছে। নির্বাচনের দিন রাজধানীতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছিল। ব্যক্তিগত গাড়ি, বাস, রাইডশেয়ারিং সেবা সীমিত ছিল। তবে আজ থেকে সড়কে যান চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক। রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীদের সংখ্যা বাড়তে দেখা যায়। রাজধানীর চিরচেনা যানজট না শুরু হলেও এখন গাড়ি স্বাভাবিক রুটে চলছে। এতে যাত্রীরাও সন্তুষ্ট। মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচলও ফিরছে আগের ছন্দে।

হোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতেও ধীরে ধীরে গতি ফিরছে। নির্বাচনের দিন শহরে ভিড় কম থাকায় অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। এখন বুকিং ও গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, শিগগির আগের রূপ ফিরে আসবে।

এক রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী বলেন, নির্বাচনের দিন দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল। বিক্রি তেমন ছিল না। এখন ধীরে ধীরে ক্রেতা বাড়ছে। তবে আগের মতো ভিড় এখনও হয়নি।

কারওয়ান বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে সরবরাহ বেড়েছে। এক আড়তদার বলছেন, নির্বাচনের সময় ট্রাক চলাচল কম থাকায় পণ্য আনা-নেওয়ায় সমস্যা হয়েছিল। এখন স্বাভাবিক হচ্ছে। বাজারে চাপ কমেছে, দাম স্থিতিশীল হলেও কিছু পণ্যে সামান্য বৃদ্ধি আছে।

শহরের বাইরে গ্রামাঞ্চলেও কার্যক্রম স্বাভাবিক হচ্ছে। কয়েকজন কৃষক ও দিনমজুরের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, গ্রামে নির্বাচন সবসময় সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। নির্বাচনের দিন আমরা হাট-বাজারে কম গিয়েছিলাম। তবে এখন স্বাভাবিক দিনের মতো আমরা নিজেদের কাজ করছি।

শিক্ষা খাতেও ধাপে ধাপে স্বাভাবিকতা ফিরছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ক্লাস শুরু হচ্ছে। ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ছুটি। ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক ছুটি। ১৫ ফেব্রুয়ারি শ্রীশ্রী শিবরাত্রি ব্রত উপলক্ষে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ। টানা পাঁচ দিনের বিরতির পর ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার থেকে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে।

পোস্টার পরিষ্কার হওয়া, যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়া, বাজারে পণ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, ক্লাস শুরু, কারখানায় উৎপাদন—এসব মিলিয়ে রাজধানী আবার তার চেনা ছন্দে ফিরছে।