ব্রিটিশ-চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৌশলগত বিনিয়োগ অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সফররত ব্রিটিশ ও চীনা ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী প্রতিনিধিদলের সম্মানে রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকায় এক নৈশভোজ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছে ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মুবিন খানের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়নভিত্তিক বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, সরকারি কর্মকর্তাসহ ব্যবসায়ী নেতারা।
আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ওল্ডহাম কাউন্সিলের ডেপুটি লিডার ও গ্রেটার ম্যানচেস্টার বাংলাদেশ পার্টনারশিপ বোর্ডের চেয়ারম্যান কাউন্সিলর আব্দুল জব্বার এমবিই। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন এমিরগ্রিন ক্যাপিটালের অ্যান্ড্রু ম্যাককালি, আর্কিটেক্টন কনস্ট্রাকশনের ক্রিস বল্ডউইন, ভিজিয়েন্ট হোল্ডিং লিমিটেডের হাউ চুনলিন এবং শেং কাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কিউ রান।
আলোচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও প্রযুক্তি খাতে সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং সহযোগিতার বিভিন্ন দিক উঠে আসে। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গ্রিন এনার্জি প্রকল্প, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
আয়োজকেরা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে এম এ মুবিন খানের যুক্তরাজ্য সফরের ধারাবাহিকতায় এ আয়োজন করা হয়েছে। ওই সফরে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে জিম ম্যাকমাহন ওবিই এমপি এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে আফরোজা খানম রিতা বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ব্যবসা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, যুক্তরাজ্য ও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং গুরুত্বপূর্ণ। এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। তিনি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কার্যকর অংশীদারত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এম. এ. মুবিন খান বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। তিনি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইএটিএল ইনোভেশন হাব লিমিটেড গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্কে প্রযুক্তিভিত্তিক অবকাঠামো পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), অগমেন্টেড রিয়েলিটি এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবন এবং এআইভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ শিল্পখাতের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে তারা কাজ করছে।
আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা তৈরিতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
