logo

নাভানা ফার্মা দখলচেষ্টা তদন্তে বিএসইসির কমিটি

নাভানা ফার্মা দখলচেষ্টা তদন্তে বিএসইসির কমিটি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নাভানা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড দখলচেষ্টার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে কোম্পানির ৬৪তম ও ৬৫তম পরিচালনা পর্ষদের সভার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) অনুষ্ঠিত পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, নাভানা ফার্মাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক শেখ মো. লুৎফুল কবির ও মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মতিউর রহমান ও নিজাম উদ্দিন। 

বিএসইসি সূত্র জানায়, গত ২৮ জানুয়ারি নাভানা ফার্মার ৬৫তম পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাইব্রিড–পদ্ধতিতে (পরিচালকদের কেউ সশরীর ও কেউ অনলাইনে) অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন কোম্পানিটির পুনর্গঠিত পর্ষদের চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ। সভা শুরুর এক পর্যায়ে অনলাইনে ওই সভায় যুক্ত হন কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের সাবেক কয়েকজন পরিচালক। তারা হলেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী, আনিসুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী ইমরানা জামান, সাবেক পরিচালক আদনান ইমাম ও তার বোন জাহার রসুল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এসব পরিচালক পলাতক রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েক জনের নামে একাধিক মামলাও রয়েছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কোম্পানিটির এসব পরিচালক নাভানা ফার্মার পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং নিয়ম অনুযায়ী তা গৃহীতও হয়।

সূত্রটি জানায়, পদত্যাগ করা সেসব পরিচালক হঠাৎ গত ২৮ জানুয়ারির সভায় অনলাইনে যুক্ত হন। তাদের অনলাইনে ওই সভায় যুক্ত করেন কোম্পানির এক কর্মকর্তা। এ অবস্থায় ওই দিন তড়িঘড়ি করে ওই সভা শেষ করা হয়। পরে এ বিষয়ে বিএসইসিতে অভিযোগ দেন কোম্পানির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বিএসইসি কোম্পানির একাধিক পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার শুনানি করেন। বিএসইসির শুনানিতে কোম্পানিটির ২৮ জানুয়ারি পর্ষদ সভায় নানা অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৬৪তম পর্ষদ সভায়ও বিতর্কিত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রমাণ পায়। যদিও ৬৪তম পর্ষদ সভার বিষয়ে কোম্পানিটির চেয়ারম্যান কিছু জানেন না বলে কমিশনকে জানিয়েছেন। ওই সভায় কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) সাঈদ আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) করার পাশাপাশি তার মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়। যদিও কোম্পানিটির চেয়ারম্যান সাইকা মাজেদ বিএসইসিতে অভিযোগ করেছেন, ওই সভার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বিএসইসি সূত্র বলছে, ৫ আগস্টের পর পালিয়ে যাওয়া কোম্পানিটির সাবেক পরিচালকদের একটি অংশ আবারও কোম্পানিটিতে ফেরার চেষ্টা করছে। তারই অংশ হিসেবে কোম্পানির একাধিক কর্মকর্তার যোগসাজশে তারা জোরপূর্বক কোম্পানির পর্ষদ সভায় অংশগ্রহণ ও নানা সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব বিস্তার করছে। এ অবস্থায় কোম্পানিটিতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই পুরো বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি। তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি কমিশন কোম্পানিটির ৬৪ ও ৬৫তম পর্ষদ সভার কার্যকারিতাও সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। সেই সঙ্গে ওই দুই সভায় কী হয়েছিল, আইন অনুযায়ী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল কি না, সভায় যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেগুলো আইনসংগত ছিল কি না, কোম্পানির পরিচালক বদল ও কর্মকর্তাদের নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলো যথাযথ ছিল কি না ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখারও উদ্যোগ নিয়েছে। কমিশনের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানিটির ৬৩তম পরিচালনা পর্ষদে যারা পরিচালক ছিলেন, তাদের পুনর্বহাল করেছে বিএসইসি।