logo

এটিএম বুথের সেবায় নির্দেশ অমান্য

এটিএম বুথের সেবায় নির্দেশ অমান্য
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাত দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশ। ফলে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এই সাত দিন সব ব্যাংককে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে এটিএম বুথে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু অনেক ব্যাংকের বুথে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে।

এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে টাকা উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়ায় এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গ্রাহকরা। গত দুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন ভোগান্তিতে পড়েন অনেকে।

বিষয়টি নিয়ে অনেকে ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

সাইফুল ইসলাম মালেক নামের একজন গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘ঈদের আগে এটিএম বুথে টাকা নেই—এটা শুধু অব্যবস্থাপনা নয়, এটি সরাসরি গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা। মানুষ নিজের কষ্টের টাকা তুলতে গিয়ে বারবার বুথে ঘুরছে, লাইনে দাঁড়িয়ে অপমানিত হচ্ছে, আর ব্যাংকগুলো নির্লজ্জের মতো চুপ করে আছে। কোরবানির মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়েও যদি মানুষ নিজের টাকা তুলতে না পারে, তাহলে এসব ব্যাংকের সেবা আসলে কার জন্য?’

রফিকুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, ‘মিরপুরের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের তিনটি বুথ ঘুরেও টাকা তুলতে পারলাম না। এটিএম বুথে টাকা নেই।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক চাহিদা অনুযায়ী ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ করেছে। কোনো ব্যাংকই টাকা না পেয়ে ফিরে যায়নি। এখন যদি কোনো ব্যাংক নিজস্ব গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থ সরবরাহে ব্যর্থ হয়, সেটি তাদের নিজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের ছুটিতে এটিএম বুথ, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক যদি এ বিষয়ে অবহেলা করে বা গ্রাহকসেবায় ব্যাঘাত ঘটায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

এর আগে গত ২১ মে গ্রাহকদের ভোগান্তি এড়াতে ঈদ উপলক্ষে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, ঈদের ছুটির সময় এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং বুথগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে।

এ ছাড়া পিওএস, ই-পেমেন্ট গেটওয়ে ও এমএফএস সেবা সচল রাখা এবং গ্রাহকদের জন্য হেল্পলাইন ও এসএমএস সতর্কবার্তা নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।