Advertisement

ঋণের বোঝা ২৫ হাজার কোটি, পুঁজিবাজারে সিটি গ্রুপের নতুন মিশন

এশিয়া পোস্ট প্রতিবেদক
ঋণের বোঝা ২৫ হাজার কোটি, পুঁজিবাজারে সিটি গ্রুপের নতুন মিশন
ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

দেশের কোটি কোটি পরিবারের রান্নাঘরে পরিচিত একটি নাম ‘তীর’। টেলিভিশন কিংবা অনলাইন পর্দায় তীর ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে যে সাফল্য, আস্থা আর পারিবারিক স্বস্তির ছবি তুলে ধরা হয়, বাস্তবের সিটি গ্রুপ এখন তার ঠিক বিপরীত এক আর্থিক বাস্তবতার মুখোমুখি। দেশের ভোগ্যপণ্য খাতের অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান সিটি গ্রুপের ব্যাংকঋণের পরিমাণ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা। যা প্রকৃতপক্ষে খেলাপি হয়ে গেছে।

Advertisement

বিপুল এই ঋণের চাপ সামলাতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন গভীর সংকটে। ব্যাংকগুলো ঋণপত্র (এলসি) খোলা কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে তীর ব্র্যান্ডসহ সিটি গ্রুপের বিভিন্ন পণ্যের সরবরাহেও দেখা দিয়েছে ঘাটতি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পুঁজিবাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি গ্রুপ। এ উদ্যোগে ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে রয়েছে ওয়ান ব্যাংক। ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের ভারে থাকা একটি প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজার থেকে নতুন করে দেড় হাজার কোটি টাকা তুললে সেই অর্থের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে? আর এই অর্থ যদি মূলত পুরোনো ঋণ সামলাতেই ব্যবহৃত হয়, তাহলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কি কার্যত একটি ব্যাংকঋণের ঝুঁকি নিজেদের কাঁধে তুলে নেবেন?

সিটি গ্রুপের আর্থিক অবস্থার এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ কারণে যে, বিশাল ঋণের চাপের মধ্যেও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটির ঋণ আপাতত ‘নিয়মিত’ হিসেবেই থাকছে। অর্থাৎ, বাস্তব আর্থিক সংকটের সঙ্গে কাগজে-কলমের ঋণমানের মধ্যে তৈরি হয়েছে একটি বড় ব্যবধান।

এর আগে ব্র্যাক ব্যাংকের উদ্যোগে পুঁজিবাজার থেকে একই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করেছিল সিটি গ্রুপ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক পরিস্থিতি ও ঋণের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। ফলে প্রথম দফার উদ্যোগটি ভেস্তে যায়। এখন একই ধরনের উদ্যোগ আবার কেন নেওয়া হচ্ছে, আর এবার সেই ঝুঁকি কে নেবে—সেটিই বড় প্রশ্ন।

আটকা ৪৭ ব্যাংকের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ পর্যন্ত সিটি গ্রুপের দেশি-বিদেশি মোট ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছেই রয়েছে অর্ধেকের বেশি পাওনা। ঋণদাতার তালিকায় শুধু দেশীয় ব্যাংক নয়, রয়েছে বিদেশি ও বহুজাতিক ব্যাংক এবং ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানও।

ব্যাংকগুলোর মধ্যে এইচএসবিসির পাওনা প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা, সিটি ব্যাংক পিএলসির এক হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) এক হাজার ১৬৭ কোটি টাকা ও ইস্টার্ন ব্যাংকের এক হাজার ১৫৮ কোটি টাকা।

ঋণের একটি বড় অংশের কিস্তি সময়মতো পরিশোধ হচ্ছে না। ব্যাংকারদের ভাষ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কিস্তি পরিশোধে ঘাটতি থাকলেও আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিটি গ্রুপের ঋণকে খেলাপি হিসেবে শ্রেণীকরণ না করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ঋণ পরিশোধের বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কাগজে-কলমে গ্রুপটি আপাতত নিয়মিত ঋণগ্রহীতা হিসেবে থাকছে।

সিটি গ্রুপের মতো বড় একটি শিল্পগোষ্ঠী হঠাৎ সংকটে পড়লে শুধু ঋণদাতা ব্যাংকগুলোই নয়, দেশের ভোগ্যপণ্যের বাজারেও বড় ধরনের অভিঘাত তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কাই সম্ভবত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ নীতি সহায়তার অন্যতম কারণ।

গত ৩১ মার্চ সিটি গ্রুপ বিশেষ নীতি সহায়তার আবেদন করার পর বাংলাদেশ ব্যাংক নির্দেশ দেয়, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের ঋণ ‘বর্তমান মানে’ বা নিয়মিত হিসেবে বহাল রাখা যাবে। তবে এ সুবিধার শর্ত হিসেবে ঋণের শ্রেণীমান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রকৃত আদায় ছাড়া সুদ আয় হিসেবে দেখানো যাবে না।

ফলে এই ‘নিয়মিত’ অবস্থানটি সিটি গ্রুপের আর্থিক সংকট দূর হওয়ার প্রমাণ নয়; বরং এটি একটি সাময়িক নীতি সুবিধা। পুঁজিবাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কিছুটা পথ খুলে দিলেও গ্রুপটির প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

দেড় হাজার কোটি টাকার মিশন

পুঁজিবাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য সিটি গ্রুপ ইতোমধ্যে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট এবং ব্যাংকিং পার্টনার হিসেবে ওয়ান ব্যাংককে নিয়োগ দিয়েছে। পরিকল্পনায় রয়েছে আইপিও, করপোরেট বন্ড, সুকুক কিংবা প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পথ। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—যে প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের চাপ সামলাতে হচ্ছে, তার নতুন শেয়ার বা বন্ডে বিনিয়োগ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কী ধরনের ঝুঁকি নিচ্ছেন?

বিশেষ করে বন্ডের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বন্ডে বিনিয়োগকারী নির্দিষ্ট সময় পর সুদ ও মূলধন ফেরত পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকঋণ পরিশোধেই যখন বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে, তখন নতুন ঋণসদৃশ অর্থ সংগ্রহের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যতে সেই অর্থ পরিশোধের সক্ষমতা—দুটিই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

এর আগে ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে একই পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সিটি গ্রুপের ঋণের প্রকৃত চিত্র ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ব্র্যাক ব্যাংক সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে। বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক নিজেই সিটি গ্রুপের কাছে প্রায় ৯৮৬ কোটি টাকা পাওনাদার।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সিটি গ্রুপের আর্থিক পরিস্থিতি এখন আর পুরোপুরি অজানা নয়। ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে অনাগ্রহী হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ওপর নির্ভর করে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে, সেটিও অনিশ্চিত।

হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চল যেন ‘মরণফাঁদ’

সিটি গ্রুপের বর্তমান সংকটের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে সামনে এসেছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলে করা বিশাল বিনিয়োগ। প্রায় ১০৯ একর জমির ওপর গড়ে তোলা এই শিল্প পার্কে ছয়টি বড় কারখানা প্রস্তুত থাকলেও বছরের পর বছর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ায় সেগুলো পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে পারেনি। অর্থাৎ, বিপুল পরিমাণ মূলধন বিনিয়োগ হয়েছে, কিন্তু সেই বিনিয়োগ থেকে প্রত্যাশিত আয় আসেনি। বিপরীতে ঋণের কিস্তি, সুদ ও পরিচালন ব্যয় ঠিকই বহন করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত বড় ক্ষতি।

গ্রুপটির হিসাব অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে টাকার প্রায় ৪২ শতাংশ অবমূল্যায়নের কারণে তাদের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়জনিত লোকসান হয়েছে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকঋণের সুদের হার ৪ থেকে ৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে।

ফলে সিটি গ্রুপের সংকট এখন শুধু ‘ঋণ বেশি’—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নেই। একদিকে বিপুল ঋণ, অন্যদিকে বড় অঙ্কের অনুৎপাদনশীল বিনিয়োগ, বৈদেশিক মুদ্রার লোকসান এবং বাড়তি সুদ—সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ওপর তৈরি হয়েছে এক ধরনের ‘পারফেক্ট স্টর্ম’।

ঋণের চাপ কমাতে এখন মূল্যবান সম্পদ বিক্রির পথও খুঁজছে সিটি গ্রুপ। এর মধ্যে হোসেন্দী অর্থনৈতিক অঞ্চলের কয়েকটি কারখানা কিংবা পুরো প্রকল্প বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। গ্রুপের মালিকানাধীন ১৮ হাজার ৮৭৫ একর আয়তনের আটটি চা-বাগান বিক্রির সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। একই সঙ্গে মালিকানাধীন একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা শেয়ার বিক্রির সম্ভাব্যতাও যাচাই করা হচ্ছে।

পুরো পুনর্গঠন প্রক্রিয়া তদারক করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্নেস্ট অ্যান্ড ইয়ংকে নিয়োগ দিয়েছে সিটি গ্রুপ। অর্থাৎ, একদিকে সম্পদ বিক্রি করে ঋণ কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে পুঁজিবাজার থেকে নতুন করে দেড় হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের উদ্যোগ—সিটি গ্রুপের বর্তমান আর্থিক পুনর্গঠনের কৌশলটি অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন অর্থের প্রবাহের ওপর।

ব্যাংকারদের ভূমিকা, ঝুঁকিতে সাধারণ বিনিয়োগকারী

সিটি গ্রুপের পুঁজিবাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘিরে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যাংকার সিটি গ্রুপকে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের দিকে উৎসাহিত করছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, ব্যাংকঋণের ঝুঁকি যখন ব্যাংকগুলোর ব্যালান্সশিটে রয়েছে, তখন সেই ঝুঁকির একটি অংশ পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে স্থানান্তর করা কতটা যৌক্তিক?

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা যদি সিটি গ্রুপের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝে সতর্ক অবস্থান নেন, কিন্তু সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটি বিক্রি করে দেড় হাজার কোটি টাকা তোলা হয়, তাহলে ঝুঁকির ভার মূলত কার ওপর পড়বে—এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর প্রয়োজন।

কারণ, সিটি গ্রুপ নতুন করে যে অর্থ তুলবে, তা যদি ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিবর্তে মূলত পুরোনো ঋণ, সুদ ও আর্থিক দায় সামলাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নাও হতে পারে। বরং এক দায় মেটাতে আরেক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার একটি চক্র তৈরি হতে পারে।

আর সেই চক্রে শেষ পর্যন্ত যদি অর্থ ফেরতের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে ব্যাংকের পরিবর্তে পুঁজিবাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই বড় ঝুঁকির মুখে পড়বেন।

সিটি গ্রুপকে ঘিরে তাই এখন মূল প্রশ্ন শুধু— দেড় হাজার কোটি টাকা উঠবে কি না। প্রশ্ন হলো, এই দেড় হাজার কোটি টাকা দিয়ে সংকটের সমাধান হবে, নাকি ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝার একটি অংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে তুলে দেওয়া হবে?

একনজরে সিটি গ্রুপ

১৯৭২ সালে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় একটি ছোট সরিষার তেলের মিল দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল সিটি গ্রুপ। সেই প্রতিষ্ঠানটি এখন বেড়ে ৪০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের একটি বড় শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে।

ভোগ্যপণ্য খাতেই গ্রুপটির সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান। ‘তীর’ ব্র্যান্ডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠিত ও ভোক্তাপ্রিয় ব্র্যান্ড রয়েছে তাদের। ‘রূপসী ফুডস’-এর অধীনে বিস্কুট, কেক ও ক্যান্ডিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করা হয়। মুন্সিগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে রয়েছে গ্রুপটির একাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল।

২০২৩ সালে সিটি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান মারা যান। এরপর গ্রুপটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন তার ছেলে ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. হাসান।

একসময় দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়ন্ত্রণ করা সিটি গ্রুপে সরাসরি প্রায় ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।

তাই সিটি গ্রুপের সংকট শুধু একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সংকট নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৪৭টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ, হাজার হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান এবং দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার।