বিএটি থেকে ৩ লাখ কোটি টাকা আত্মসাৎ, নথি তলব দুদকের

বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বাংলাদেশ অফিসের বিরুদ্ধে গত ৫৫ বছরে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে নথিপত্র তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
কোম্পানিটির বাংলাদেশ অফিসের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অর্থপাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক। অভিযোগের আর্থিক অনিয়ম উদ্ঘাটনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটি।
শনিবার (২৩ মে) দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এশিয়া পোস্টকে জানান, কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর অভিযোগগুলো বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে দুদকের উপপরিচালক মো. আক্তারুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পেতে কমিশন যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।
তিনি বলেন, নথিপত্র পর্যালোচনার পর জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে ভারত বিভক্তির পর পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি (পিটিসি) করাচিতে কার্যক্রম শুরু করে এবং পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুটি বড় কারখানা স্থাপন করে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পরিত্যক্ত এসব সম্পত্তি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ হওয়ার কথা ছিল। অভিযোগে বলা হয়, পিটিসি এসব সম্পদের বিপরীতে করাচি থেকেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পিটিসির সাবেক ফাইন্যান্স ম্যানেজার এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জামালউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাষ্ট্রীয় এসব সম্পদের নিয়ন্ত্রণ বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) হাতে তুলে দেয়।
এই কথিত জালিয়াতির কারণে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।
