logo

দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ

দেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ

বিশ্ব বাজারের স্বর্ণের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৫ হাজার ২৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দাম। এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ১৪ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। 

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬২ হাজার ৪৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫৯৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস আরও জানায়, স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৪১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৯১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল গত ২৬ জানুয়ারি থেকেই।

এর আগে, সবশেষ চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৫৭৪ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৭ হাজার ১৯১ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি। যা ছিল দেশের ইতিহাসে মূল্যবান এই ধাতুর সর্বোচ্চ দাম।

জানা গেছে, চলতি বছর দেশের বাজারে ১৪ বারের মতো সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ১১ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ৩ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সঙ্গে এবার বাড়ানো রয়েছে রুপার দামও। ভরিতে ৫২৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ হাজার ৭৫৭ টাকা। যা দেশের ইতিহাসে রুপার সর্বোচ্চ দাম। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৭ হাজার ৪০৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮২ টাকা।

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ৮ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ৩ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রতি আউন্সে স্বর্ণের দাম পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫ সালে স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক উত্থান হয়েছিল। ওই বছর এই মূল্যবান ধাতুর দাম ৬০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার পর এ বছর ফের বাড়লো।

এদিকে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও নেটোর মধ্যে চলমান টানাপোড়েন এবং বিশ্বজুড়ে আর্থিক ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হওয়ার মাঝেই স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে এই উল্লম্ফন। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতিও বাজারকে অস্থির করে তুলেছে।