বাজারে যে ৫ ধরনের ঘি ও বাটার অয়েলে চরম ত্রুটি

ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় বাংলাদেশ মান (বিডিএস) অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বেশ কিছু ব্র্যান্ডের ঘি ও বাটার অয়েল বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান প্রণয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। নিম্নমানের প্রমাণিত এসব পণ্য না কিনতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিএসটিআইয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ঘি, বাটার অয়েল ও বম্বে সুইটসের মসলাসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের তথ্য জানানো হয়।
বিএসটিআই জানায়, নিয়মিত সার্ভিল্যান্সের অংশ হিসেবে বাজার থেকে বিভিন্ন কোম্পানির পণ্য সংগ্রহ করে আন্তর্জাতিক মানের নিজস্ব অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে। এ পরীক্ষায় বেশ কিছু পণ্যের মান সঠিক পাওয়া গিয়েছে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের ঘি, বাটার অয়েল এবং মসলার মান পরীক্ষায় নিম্নমানের হওয়ায় তা অকৃতকার্য হয়।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় দেখা যায়, বাঘাবাড়ির ‘ঘি’তে নেই ‘ঘি’ (মিল্ক ফ্যাট); পাম অলিন, বনস্পতি দিয়ে তৈরি করে ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছে।
পরীক্ষায় বাঘাবাড়ী ব্র্যান্ডের ঘিতে দুধের ফ্যাট বা প্রকৃত ‘মিল্ক ফ্যাট’ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিএসটিআই। সংস্থাটির দাবি, পাম অলিন ও বনস্পতি ব্যবহার করে পণ্যটি ‘ঘি’ নামে বাজারজাত করা হচ্ছিল এবং রিফ্র্যাক্টিভ ইনডেক্স, আয়োডিন ভ্যালু, স্যাপোনিফিকেশন ভ্যালুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক প্যারামিটারে চরম ত্রুটি ধরা পড়েছে।

এর মধ্যে বাঘাবাড়ী প্রিমিয়াম ঘি কোম্পানির ‘বাঘাবাড়ি’ ব্র্যান্ডের ঘি, কিশোরগঞ্জ ফুড প্রোডাক্টস ‘অরুন বাঘাবাড়ী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্ট ‘নিউ রাঁধুনী’ ব্র্যান্ডের ঘি, মেসার্স মামুন ফুড প্রোডাক্টের ‘সিটি’ ব্র্যান্ডের ঘি ও এলডার্স ফুড প্রোডাক্টস এন্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ ‘এলডার্স’ ব্র্যান্ডের বাটার অয়েল বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই।
অন্যদিকে বম্বে সুইটসের মসলা বাংলাদেশ মান (বিডিএস) থেকে বিভিন্ন প্যারামিটারে নিম্নমানের পাওয়া গেছে। মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বম্বে সুইটস এন্ড কোং লিমিটেডের উৎপাদিত কারী পাউডার হাঁসের মাংসের মসলা, তেহারি মসলা, কালা ভুনা মসলা, গরুর মাংসের মসলা ও মাছের মসলা বাজার থেকে প্রত্যাহারন করা হয়েছে।

বিএসটিআই মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জাতীয় মান অনুযায়ী পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখা প্রতিটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কোনো প্রতিষ্ঠান এ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে বিএসটিআই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, পণ্যের মান সনদ দেওয়ার পাশাপাশি নকল ও ভেজাল পণ্য রোধে সার্ভিল্যান্স কার্যক্রমের মাধ্যমে বিএসটিআইয়ের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ও লাইসেন্স নম্বরের পাশাপাশি উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, পণ্যের উপাদানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে ভোক্তাদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা অথবা বিএসটিআই’র মান চিহ্নের অপব্যবহার সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত বিএসটিআইকে হটলাইন: ১৬১১৯ এ কল করে অথবা dg@bsti.gov.bd তে ই-মেইলের মাধ্যমে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানান।


