পাম্পে তেলের জন্য হুড়োহুড়ি, বন্ধ ৫ সার কারখানা

ইরানে চলমান ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা ও ইরান কর্তৃক কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বাড়ার শঙ্কায় রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল সংগ্রহে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।
সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বন্ধ রাখা হয়েছে পাঁচটি সার কারখানা। এলএনজি আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গ্যাস সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই সংকট বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বড় ধস নামাতে পারে।
পাম্পে তেলের জন্য হুড়োহুড়ি
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ, গুলশান সার্ভিস স্টেশন, গাবতলীসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত দেড় গুণ বেশি গ্রাহক দেখা গেছে। পাম্প কর্মচারীরা জানিয়েছেন, অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল মজুত করছেন।
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ নাজমুল হক জানিয়েছেন, বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তেল বিক্রি বেড়েছে ৮০ শতাংশ । তিনি সতর্ক করে বলেন, সবাই যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তেল কিনতে চান, তাহলে মজুত দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।
একই চিত্র দেখা গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বগুড়া ও জামালপুরে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পুকুরিয়া পেট্রোল পাম্পে চালকদের জটলা তৈরি হয়েছিল। তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে— এমন আশঙ্কায় অনেকে আগেভাগেই ট্যাংক ভর্তি করে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
বগুড়ায় বৃহস্পতিবার রাতে পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের অভিযোগ ওঠে। শহরের একাধিক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল না পেয়ে অনেক ক্রেতা ফিরে যাচ্ছেন। বগুড়া ফিলিং স্টেশনে অন্তত ৫০ জন মোটরসাইকেলচালক তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। সেখানে শুধু পেট্রোল দেওয়া হচ্ছিল, অকটেন সরবরাহ বন্ধ ছিল।
কমল নামে এক মোটরসাইকেলচালক অভিযোগ করেন, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ লাগছে। আর এখানে সিন্ডিকেট সুযোগ নেওয়া শুরু করেছে। এভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ করে জনগণকে ভোগান্তির মধ্যে ফেলা হচ্ছে।
জামালপুরে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার পর জেলার প্রায় সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারিভাবে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ঘোষণা না থাকলেও সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন।
জ্বালানি মজুত সংকটপূর্ণ, এলএনজি সরবরাহে ধাক্কা
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ডিজেল মজুত মাত্র নয় দিনের থেকে ১৪ দিনের । অকটেন মজুত রয়েছে ১৫ থেকে ২৫ দিনের, পেট্রোল ১৬ দিনের এবং ফার্নেস অয়েল ৬০ থেকে ৭৬ দিনের । পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বরাদ্দ ১০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে।
এলএনজি আমদানিতে দেখা দিয়েছে বড় জটিলতা। পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, মার্চ মাসে সাতটি এলএনজি কার্গো আসার কথা ছিল। এর মধ্যে কাতার থেকে আসার কথা ছিল ছয়টি। কিন্তু ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফান ও মেসাইদ এলএনজি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে । ফলে কাতার থেকে দুটি কার্গো সরবরাহ না-দেওয়ায় সেগুলো স্পট মার্কেট থেকে সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি গানভর ও ভিটোল এশিয়ার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান মো. আরফানুল হক জানান, হরমুজ প্রণালি হয়ে এপ্রিলের মধ্যে পাঁচটি এলএনজি কার্গো আসার কথা রয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে এলএনজির দাম ৩৫ শতাংশ বেড়েছে ।
গ্যাস সংকটে পাঁচ সার কারখানা বন্ধ, বিদ্যুতে ধস
দেশের গ্যাস পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পেট্রোবাংলা প্রতিদিন ২০০ মিলিয়ন কিউবিক ফিট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। বুধবার থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০ এমএমসিএফডি ও সার কারখানায় প্রায় ১৪০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমানো হয়েছে।
ফলে কাফকো, সিএফসিএফ, কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডসহ ছয়টি সরকারি সার কারখানার মধ্যে চারটি বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি চালু রাখা হয়েছে বোরো মৌসুমে সার সংকট এড়াতে।
সিএফসিএলের প্রধান রসায়নবিদ ও উৎপাদন প্রধান উত্তম চৌধুরী জানান, বন্ধের আগে কারখানা দুটিতে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হতো। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই আবার উৎপাদন শুরু হবে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমান সংকট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও গুরুতর। জ্বালানি সরবরাহ ধীর হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে ইফতার থেকে তারাবি এবং সেহরির সময় লোডশেডিং থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জ্বালানি সাশ্রয়ের কঠোর নির্দেশনা, বিজিবি মোতায়েন
সংকট মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সব ধরনের সাজসজ্জার আলো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। নাগরিকদের ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন বা কারপুলিং ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় জ্বালানি পাচার রোধে বিজিবি, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে সীমান্ত এলাকায় ডিজেল বিক্রি সীমিত করা হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
পাম্প মালিকদের ড্রাম বা পাত্রে তেল বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিপিসি। প্রতি গ্রাহক সর্বোচ্চ কতটুকু তেল কিনতে পারবেন, সে বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাম্প মালিক সমিতির সভাপতি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ উদ্যোগে তার অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে এনে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সচিবালয়ের এক নম্বর বিল্ডিংয়ের ২০১ নম্বর নিজ কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইট ও ৫০ শতাংশ এসি কমিয়ে দেন তিনি। একই সঙ্গে সকল মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকটে বাংলাদেশের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মসরুর রিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে জ্বালানি সরবরাহ ও দাম অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে, যা ব্যালান্স অব পেমেন্ট ও রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি করবে। মধ্যপ্রাচ্য বাংলাদেশের প্রধান আমদানি উৎস। তাই এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে।
তিনি আরও বলেন, এশিয়া ও ইউরোপে পণ্য পাঠানোর প্রধান জলপথ সুয়েজ খাল ইরানের খুব কাছাকাছি। এই যুদ্ধ যদি সেখানে প্রভাব ফেলে, তাহলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে নতুন কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনীহা তৈরি হতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা রপ্তানিনির্ভর দেশ, তাই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতেই হবে। ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে পোশাকের মতো পণ্যে খরচ কমবে। অন্যদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি ও গ্যাস আমদানিতে শুল্ক-কর মওকুফের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
এনার্জি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম তামিম সতর্ক করে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সাশ্রয় এবং বিকল্প উৎস থেকে উচ্চমূল্যে কেনা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। চীন, জাপান, পাকিস্তান ও ভারত গ্যাস রেশনিং শুরু করেছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে যদি যুদ্ধ শেষ না হয়, তাহলে জ্বালানি সংকট দীর্ঘমেয়াদি আকার ধারণ করতে পারে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা পরিকল্পনা কার্যকরভাবে কাজ করছে না। তাই দেশ এখন মূলত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ তেলের দাম, এলপিজি পরিবহন ও আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মূল্যস্ফীতির চাপ, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার শঙ্কা
দুই বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। এর ওপর ইরান-ইসরায়েল-মার্কিন যুদ্ধের প্রভাবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জনগণের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। দারিদ্র্য বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে বলেছে, চলতি বছর দেশে অতি দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ৩০ লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তারা এই পূর্বাভাস মূলত প্রবৃদ্ধি মন্থর হওয়ার কারণে দিয়েছিল। এখন উদ্বেগ রয়েছে, যদি তার ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির ধাক্কা লাগে, তাহলে পরিস্থিতি গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ইরানের ৬৫০ বিলিয়ন ডলারের বাজারে প্রায় ১০ দশমিক ৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে, যার বেশির ভাগই তৈরি পোশাক ও ওষুধ পণ্য।
সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে ৬০ দশমিক ৫ শতাংশ। বিপরীতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ৪৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আমদানি রপ্তানির চেয়ে দ্রুত বাড়ায় বাণিজ্য ঘাটতিও বাড়ছে। এই ঘাটতির কারণে বৈদেশিক হিসাবের ভারসাম্য তৈরি হচ্ছে, যা মুদ্রার মান ধরে রাখাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
কর্মস্থলে গেলে বিদ্যুৎ নেই, বাসায় ফিরলে গ্যাস নেই
সংকটের প্রভাব ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে শুরু করেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নায় সমস্যা হচ্ছে। রান্না করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে গৃহিণীদের। শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বুধবার থেকে এলএনজি সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় গ্যাসের চাপ কমেছে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার দেশে এলএনজি থেকে ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বৃহস্পতিবার তা কমিয়ে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নামিয়ে আনা হয়। ঈদ ছুটি পর্যন্ত এই সরবরাহ ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে পেট্রোবাংলা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হাজার হাজার মাইল দূরের যুদ্ধ বাংলাদেশের জন্য জ্বালানি জরুরি অবস্থায় রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও এলএনজির সরবরাহে টান পড়েছে। অস্থির স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ও পরিশোধিত জ্বালানি কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।
এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বাংলাদেশের জন্য সামনে আরও কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।