তেলের দাম বিশ্ববাজারে ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলার ছুঁই ছুঁই

মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দুটি জাহাজে হামলার খবর সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে বলে শিল্প খাতের তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৫৩ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭২ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৯ দশমিক ৬৩ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ৯১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবারও উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ১ ডলারের বেশি বেড়ে লেনদেন শেষ হয়। এতে ৩১ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ দামে পৌঁছায় তেল। এর আগে সোমবার তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতিরা পৃথকভাবে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজে হামলার কথা জানিয়েছে।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজাই মঙ্গলবার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ অবসানে ইরানের শর্ত মেনে না নেওয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে। ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংঘাতের অবসান।
জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ছয়টি জাহাজ চলাচল করেছে। অথচ আগের ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১১টি জাহাজ। যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল সরবরাহের পরিস্থিতি নিয়ে বাজারেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। রয়টার্সের এক জরিপে মঙ্গলবার ধারণা করা হয়েছিল, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানির মজুত কমে থাকতে পারে।
তবে আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের (এপিআই) তথ্য উদ্ধৃত করে বাজারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৭ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত বেড়েছে প্রায় ৯১ লাখ ব্যারেল। একই সময়ে পেট্রোলের মজুত কমেছে ১৫ লাখ ব্যারেল এবং ডিজেলের মজুত কমেছে ৫ লাখ ৯৬ হাজার ব্যারেল।
অপরিশোধিত তেলের মজুত বৃদ্ধির পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি। হাইটং ফিউচার্স এক নোটে বলেছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) একই তথ্য নিশ্চিত করলে সরবরাহ সংকট নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের পরিসংখ্যান শাখা ইআইএ বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় তেলের মজুতের সরকারি তথ্য প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইআইএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের অপরিশোধিত তেল সরবরাহে দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ব্যারেলের ঘাটতি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদও অব্যাহত থাকতে পারে।
.png)


