logo

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চালাবে বিদেশি অপারেটর
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: ডেইলি স্টার থেকে নেওয়া

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিদেশি অপারেটরকে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে এনসিটির দায়িত্ব আন্তর্জাতিক অপারেটরের হাতে তুলে দেওয়ার খসড়া চুক্তি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিচালনার দায়িত্ব কোন বিদেশি অপারেটরকে দেওয়া হয়েছে, সেটি বলা হয়নি বিজ্ঞপ্তিতে।

এদিন অর্থনৈতিক বিষয় সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এই চুক্তির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) বিদেশি অপারেটর নিয়োগ নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশার অবসান হতে যাচ্ছে।

এনসিটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রস্তাব দেয়। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সরকার প্রক্রিয়া চালালেও শুরু থেকে এনসিটি বিদেশিদের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা করে আসছে বিভিন্ন শ্রমিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ধারাবাহিকভাবে আন্দোলনও করছে তারা। এমন পরিস্থিতিতে অনুমোদন পেল খসড়া চুক্তি।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং সরকারি পর্যায়ে (জিটুজি) কাঠামোর অধীনে এনসিটি পরিচালনার কাজ ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সে সময় ওই উদ্যোগ পরিণতি পায়নি।

এরপর গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনসিটির দায়িত্ব বিদেশি অপরাটেরের হাতে দেওয়ার কার্যক্রম আবার শুরু করে। এই সরকারের শেষ সময়ে এ বিষয়ে চুক্তির জোর আলোচনা শুরু হলে আন্দোলন করেন বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা। চলতি বছরের গত ৮ ফেব্রুয়ারি এনসিটি বিদেশি অপারেটরকে ইজারা দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করে।

বিএনপির নতুন সরকার গত ৪ জুন দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়। এই নির্দেশনার পর আলোচনা প্রক্রিয়ায় সহায়তা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যের একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করে।

তবে গত জুলাইয়ে বন্দর চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, এ বিষয়ে আলোচনায় দেশের স্বার্থে ‘কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নেতারা বলছেন, বহুজাতিক কোম্পানিকে ইজারা দিলে সরকার আয় থেকে বঞ্চিত হবে, দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়ে যাবে এবং ‘কনসেশন’ চুক্তির কারণে বিপজ্জনক পণ্য খালাসেরও আশঙ্কা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম গত ১৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিদেশিদের দিলে চট্টগ্রাম বন্দর যেমন লোকসানের দিকে যাবে ও দক্ষ কর্মশক্তি হারাবে তেমনিভাবে ভূ-রাজনৈতিক ভাবেও বাংলাদেশ একটা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সমূহ আশঙ্কা অনেক বেশি।