স্বর্ণের দাম টানা চার বারে যত বাড়ল

দেশের বাজারে টানা চাববার বাড়ল স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ বুধবার (১ এপ্রিল) স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে। চারবারে মোট ১৩ হাজার ১২২ টাকা বেড়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
বুধবার সকালে প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানো হয়েছে। ফলে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। এর আগে গতকাল মঙ্গলবারও ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বৃদ্ধি করে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৭১১ টাকা।
আর গত শনিবার (২৮ মার্চ) দুইবার স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়। সকালে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৭ টাকা বাড়ানো হয়। এরপর বিকেলে আবার ৪ হাজার ৪৩৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা বিক্রি হয়।
সংগঠনটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে তেজাবি (পিওর গোল্ড) স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে এই সমন্বয় করা হয়েছে।
আজকের নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ভরি প্রতি দাম ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৭৯ টাকায়।
তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপা ৫ হাজার ৪২৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৫০০ টাকায় স্থির রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা— বিশেষ করে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা চলতি মাসের শুরু থেকেই বৈশ্বিক বাজারে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৬৭৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে জানুয়ারির শেষ দিকে স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ডলারের বেশি উঠেছিল, যা বাজারে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করে। সেই প্রভাব দেশের বাজারেও পড়ে। ফলে ২৯ জানুয়ারি একদিনেই ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায় পৌঁছায় স্বর্ণের দাম।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৫১ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ৩০ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ২১ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।