logo
Advertisement
আলোচনা সভায় বক্তারা

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে

এশিয়া পোস্ট নিউজ
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে
'বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়' শীর্ষক আলোচনা সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ। ছবি: সংগৃহিত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে পারলে উভয় দেশই এতে লাভবান হবে। এতে বাংলাদেশের বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের বর্হিবিশ্বে পড়াশোনা এবং কাজের ক্ষেত্র প্রসারিত হবে। দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদানের এরকম জোরদার ধারা তৈরী হলে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

Advertisement

রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর এক রেস্টুরেন্টে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

'বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়' শীর্ষক এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার সেক্রেটারি আলমগীর ইসলাম। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন হজ্জ এজেন্সিস বাংলাদেশ (হাব) সহ-সভাপতি এবং প্রখ্যাত মুফাসসিরে কুরআন মরহুম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাওলানা শামীম সাঈদী।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন শান্তা-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাইকুজ্জামান বাদশা, গ্রিন কমিউনিটি এন্টারপ্রেনিউর ক্লাবের পরিচালক আলতাফ হোসাইন, গ্রিন কমিউনিটি এন্টারপ্রেনিউর ক্লাবের পরিচালক বেগম আমাতুন নুর, রোমেল আহমেদসহ অনেকে।

গ্রিন কমিউনিটি এন্টারপ্রেনিউর ক্লাব এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়া যৌথভাবে এ আলোচনার আয়োজন করে।

মাওলানা শামীম সাঈদী মানবতাবাদী ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সংগঠনের এই আয়োজনের প্রশংসা করে তিনি বলেন, উন্নত দেশে প্রাচুর্য্যের মধ্যে থেকেও তারা বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন বলেই এরকম একটি আয়োজন করেছেন। তিনি অন্যদেরকেও একইভাবে দেশকে ভালোবেসে কাজ করার আহ্বান জানান। দক্ষতা এবং কার্যকর জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের খ্যাতিমান শিক্ষাবিদদের লেকচারের সুযোগ সৃষ্টির আহ্ববান জানান।

আলমগীর ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়া দুই দেশের সম্পর্ক শুধু সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে হবে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

‘বাংলাদেশ–অস্ট্রেলিয়া: পারস্পরিক দক্ষতা বৃদ্ধি, জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিনিময়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগকে শুধু একটি স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি হিসেবে দেখলে হবে না; বরং এটি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দক্ষতা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের একটি সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম হতে পারে।

আলমগীর ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে শুধু অস্ট্রেলিয়ায় মানুষের যাওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত নয়। বরং দুই দেশের মধ্যে ‘মাইগ্রেশন নয়, মোবিলিটি, নলেজ এক্সচেঞ্জ ও পার্টনারশিপ’-এর ভিত্তিতে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করতে হবে।

তার মতে, এই সহযোগিতার আওতায় People Exchange, Skill Exchange, Knowledge Exchange, Institutional Exchange, Business Exchange এবং Cultural Exchange-কে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া যেতে পারে। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়ার ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, সংগঠনটি কোনো ট্রেনিং প্রোভাইডার বা এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি হিসেবে কাজ করতে চায় না। বরং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়, প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে একটি ‘ব্রিজ বিল্ডার’ হিসেবে কাজ করতে চায়।

অন্য বক্তারাও দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং দক্ষতার বিনিময়ের আহ্বান জানান।

তারা বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ড, পেশাগত নিরাপত্তা, স্কিল অ্যাসেসমেন্ট, ভোকেশনাল এডুকেশন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্সের মতো ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা নিতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়াকে দক্ষ জনশক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও উৎপাদন খাতের অভিজ্ঞতা, কৃষি, আইসিটি, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস, উদ্যোক্তা এবং দক্ষিণ এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সংযোগের সুযোগ দিতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে কনস্ট্রাকশন ও স্কিলড ট্রেড, কৃষি ও এগ্রিবিজনেস, এজড কেয়ার ও কমিউনিটি সার্ভিস, আইসিটি ও ডিজিটাল স্কিল এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গ্রিন ইকোনমিতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠনের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে অর্জিত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির জন্য Recognition of Prior Learning (RPL), Skills Assessment ও Qualification Mapping-এর মতো উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।

অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পেশাজীবীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে বাংলাদেশের সঙ্গে আরও নিয়মিতভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে আলমগীর ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, নির্মাণ, আইটি, গবেষণা, কৃষি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত বাংলাদেশি পেশাজীবীরা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানসম্পদ হতে পারেন।

বক্তারা বলেন, দক্ষতা বিনিময়ের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের তরুণদের মধ্যে শিক্ষা, নেতৃত্ব, খেলাধুলা, শিল্প, কমিউনিটি সার্ভিস ও উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বিনিময় কর্মসূচি চালু করা যেতে পারে। পাশাপাশি বাংলা ভাষা, সংগীত, নৃত্য, সাহিত্য, খাবার, ইতিহাস ও উৎসবের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।

তারা বলেন, দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার কাঠামো হওয়া উচিত দ্বিমুখী। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে শিখবে, একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াও বাংলাদেশের দক্ষতা, মানুষ, ব্যবসা, সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হবে।

“মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ, দক্ষতার বিনিময়, পারস্পরিক সংস্কৃতির বোঝাপড়া এবং নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি”—এই লক্ষ্য সামনে রেখে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তব অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন বক্তারা