ট্রাম্পের নতুন ঘোষণায় কমলো তেলের দাম, ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রেখে আলোচনার পথ খোলা রাখায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচারসের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে জাপানি ইয়েনের দরপতন ঠেকাতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের ফলে মার্কিন ডলারের মূল্য কিছুটা কমে যায়। এতে ডলারে লেনদেন হওয়া স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য তুলনামূলক কম দামে কেনার সুযোগ তৈরি হয়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণ ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও তেলের বাজার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে দাম বৃদ্ধির গতি সীমিত রয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবার ইরানের সঙ্গে আলোচনা হবে। তবে সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকে স্বর্ণের বাজার চাপের মুখে রয়েছে। কারণ যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াতে পারে। স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদ না দেওয়া এই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নেওয়া তিন কর্মকর্তা শুক্রবারও সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সুদের হার না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি ফেডের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থেকে যেতে পারে।
এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার-সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চাকরির শূন্যপদের তথ্য, এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন, সাপ্তাহিক বেকার ভাতার আবেদন এবং বহুল আলোচিত নন-ফার্ম পেরোলস (এনএফপি) প্রতিবেদন। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা নির্ধারিত হতে পারে।
টিম ওয়াটারার বলেন, তেলের দাম আরও কমা, ডলারের আরও দুর্বল হওয়া অথবা ফেডের সুদের হার নিয়ে নমনীয় অবস্থানের ইঙ্গিত মিললে স্বর্ণের দাম আরও বাড়তে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে আবার উত্তেজনা বাড়লে কিংবা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মার্কিন কর্মসংস্থান তথ্য প্রকাশিত হলে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির গতি থমকে যেতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ১৩ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে।
.png)

