logo

এবারের বাজেটে বাড়ছে দেড় লাখ কোটি টাকা

এবারের বাজেটে বাড়ছে দেড় লাখ কোটি টাকা

প্রায় ২০ বছর পর জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের (২০২৬–২৭ ) বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। যেটির আকার হতে যাচ্ছে নয় লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেটের মধ্যে এটি একটি। এই বড় বাজেটের চিন্তার পেছনে নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া বিএনপির নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, ভর্তুকি ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় জড়িত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারের আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হারসংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বাজেটকেন্দ্রিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে আরও আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও পরে সেটি সংশোধিত হয়ে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নামানো হয়। তবে, বিএনপি সরকার তাদের প্রথম বাজেটের আকার নয় লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা দেওয়ার চিন্তা করছে। যেটি চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা বেশি। এরমধ্যে প্রায় ৬৭ শতাংশ পরিচালন খাতে এবং ৩৩ শতাংশ উন্নয়ন খাতে ব্যয় করা হবে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় অর্থ ব্যয়ের সম্ভাবনা

নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় হবে। সরকার আগামী অর্থবছরে ৫০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনতে চায়। 

এ ছাড়া ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া, ‘নতুন কুড়ি’ ক্রীড়া কর্মসূচির আওতায় মেধাবী ক্রীড়াবিদদের বৃত্তি, সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হবে নতুন সরকারকে। এসব খাতে আগামী অর্থবছরে প্রায় এক লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি—বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, কৃষি ও সারের ভর্তুকি বাড়বে। একইসঙ্গে সরকারের ব্যয়ের বড় অংশের আরেকটি ঋণের সুদ পরিশোধ। চলতি অর্থবছরে সুদ পরিশোধের জন্য প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা আগামী অর্থবছরে আরও বাড়তে পারে।

রাজস্ব ও ঘাটতি

আগামী অর্থবছরে প্রায় ছয় লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতির মধ্যে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ ঋণের মাধ্যমে এবং বাকি এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে সংগ্রহের চিন্তা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চাপের মধ্যে থাকা অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে আরও সংকটে পড়লেও ব্যয় কমানোর সুযোগ খুব সীমিত। ফলে সরকারকে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হচ্ছে। তবে বড় বাজেটের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগও অব্যাহত রাখতে হবে। তথ্যসূত্র: সমকাল