দুই বাংলাদেশির দুবাইভিত্তিক স্টার্টআপ ‘ওয়াইজারগেটস’ পেল আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ
-dab906-720x405.webp)
বাংলাদেশের দুই উদ্যোক্তার হাত ধরে দুবাইতে গড়ে ওঠা আর্থিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইজারগেটস’ (WiserGates) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। ৩০ মিলিয়ন ডলার মূল্যায়নে প্রি-সিড রাউন্ড বিনিয়োগ সংগ্রহ করা এই প্রতিষ্ঠানটি এবার নজর কেড়েছে টোকিও এবং লন্ডনের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারীদের।
টোকিওভিত্তিক ‘নিউভিশন জাপান কো লিমিটেড’ এবং লন্ডনভিত্তিক ‘ওয়ান সিএস হোল্ডিংস লিমিটেড’ প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) এ খবর জানিয়েছে ‘ওয়াইজারগেটস’।
বাংলাদেশের দুই উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রেফায়েত চৌধুরী ও মো. নাজিবুর রহমান প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়াইজারগেটস’ দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল সেন্টারে (ডিআইএফসি) নিবন্ধিত। তাদের ফ্ল্যাগশিপ প্ল্যাটফর্ম (প্রধান ব্যবসায়িক বা প্রযুক্তিগত প্ল্যাটফর্ম) ‘ন্যানো অ্যাসেটস’-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ শুরুতে যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন লাভজনক ছোট ব্যবসা—যেমন রেস্তোরাঁ, লন্ড্রি, জিম, মুদি দোকান ও কৃষি খামারে আংশিক বা টোকেনাইজড শেয়ার কিনতে পারবেন। আগামী ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে এই সেবাটি পুরোপুরি চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেফায়েত চৌধুরী এশিয়া পোস্টকে জানিয়েছেন, ‘সঠিকভাবে আর্থিক বিনিয়োগের সক্ষমতা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। আমরা চাই প্রতিটি বাংলাদেশি, যেখানেই থাকুন না কেন, দেশের প্রবৃদ্ধির প্রকৃত অংশীদার হোক। আমাদের মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগের সঠিক কৌশল শেখানো, যাতে তারা সচেতনভাবে নিজস্ব সম্পদ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হন।’ ওয়াইজারগেটস প্রবাসীদের এবং সাধারণ মানুষকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে নিজেদের সম্পদ গড়ে তোলার একটি ন্যায্য সুযোগ করে দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ‘শুধু পরিকল্পনাতেই সীমাবদ্ধ নয়, কাজের দিক থেকেও বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে ওয়াইজারগেটস। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে ১০টিরও বেশি কোম্পানি এবং বিভিন্ন খাতে মোট ২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ সম্পন্ন করেছে।’ এই অভিজ্ঞতা ও পথচলাই নতুন ও বড় পরিসরের পরিকল্পনাগুলোকে সফল করতে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে বলেও জানান তারা।
বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলতে পারে এই উদ্যোগ। দেশের ভেতর ক্রাউডফান্ডিং বা যৌথ অর্থায়ন ও ডিজিটাল শেয়ারের নীতিমালা তৈরি হলে, আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে এই সেবা বাংলাদেশেও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
এর মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের জন্য ‘ন্যানো এফডিআই’ বা ছোট আকারের সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। উদ্যোক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রবাসীরা যে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান, তার মাত্র ১০ শতাংশ যদি এই ধরনের উৎপাদনশীল খাতে যুক্ত হয়, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ সৃষ্টি করতে পারে।


