logo

দুই দশকের চেষ্টায় চূড়ান্ত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

দুই দশকের চেষ্টায় চূড়ান্ত ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি

ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে একটি ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। মঙ্গলবার এই ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে দুই পক্ষই বিকল্প কৌশল হিসেবে এই চুক্তিকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মোদি বলেন, ‘গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সারা বিশ্বের মানুষ এটিকে ‘সব চুক্তির জননী’ বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি ও ইউরোপের লাখো মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ নিয়ে আসবে।’

রয়টার্স জানায়, প্রায় ২০ বছর ধরে দফায় দফায় স্থগিত হওয়া আলোচনার পর এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল এবং সুরক্ষিত বাজারকে ২৭ দেশে সংগঠন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের জন্য বড় পরিসরে উন্মুক্ত করতে যাচ্ছে। ইইউ বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

মঙ্গলবারই নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত–ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লায়েন যৌথভাবে এই চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে (মার্চ পর্যন্ত) ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এই চুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি দক্ষিণ আমেরিকার জোট মারকোসুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এর আগে গত বছর ইইউ ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। একই সময়ে ভারতও যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একের পর এক এসব চুক্তি বৈশ্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর কৌশলকেই স্পষ্ট করছে।

বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের আগ্রহ ও ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি পশ্চিমা জোটের ঐতিহ্যবাহী সম্পর্ককে চাপের মুখে ফেলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ভারতের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে।

এর আগে, যোগাযোগ বিভ্রাটের কারণে গত বছর ভারত–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ভেস্তে যায়।

ভারতীয় সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের আগে আইনি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি, এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি কার্যকর হবে।