সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত

রাষ্ট্র মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসিতে সর্বোচ্চ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতকরণ, স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরুদ্ধার এবং গ্রাহকবান্ধব সেবার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ‘কাস্টমার ফার্স্ট: পেমেন্ট অ্যান্ড সার্ভিস এক্সিলেন্স’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি ব্যাংকের করপোরেট কার্যালয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী এবং ঢাকা শহরের বিভিন্ন শাখার শাখা ব্যবস্থাপকরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শাখা, উপশাখা ও অন্যান্য কর্মস্থল থেকে প্রায় ১৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সম্মেলনে যুক্ত হন।
সম্মেলনে গ্রাহকসেবা ও স্বাভাবিক লেনদেনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ, গ্রাহকবান্ধব ও সেবামুখী করার বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন সেবা প্রদান এবং ব্যাংকের কার্যক্রমে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্র মালিকানাধীন শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক এবং মূলধনের বিবেচনায় দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাংককে ঘিরে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, নীতিনির্ধারক, আমানতকারী, গ্রাহকসহ দেশের মানুষের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি। আমাদের প্রত্যেককে সম্মিলিতভাবে এ প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ব্যাংকের প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শরিয়ার নীতিমালা, প্রচলিত আইন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা এবং ব্যাংকিং বিধিবিধান যথাযথভাবে পরিপালন করে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, সততা, মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গ্রাহকের স্বার্থ ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবার প্রতিটি পর্যায়ে আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, গ্রাহকের আস্থাই একটি ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাই শরিয়াহভিত্তিক, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সর্বোৎকৃষ্ট ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধার ও আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি, অবহেলা, হয়রানি ও অযাচিত গ্রাহকভোগান্তি কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে জানিয়ে আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, এ বিষয়ে ব্যাংকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করতে হবে। গ্রাহকের সঙ্গে প্রতিটি আচরণ ও সেবার প্রতিটি ধাপে ব্যাংকের পেশাদারিত্ব ও মূল্যবোধের প্রতিফলন থাকতে হবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যে সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, নীতিনির্ধারক, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্রাহকদের মুনাফার ওপর কোনো ধরনের হেয়ারকাট থাকবে না জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রাহকরা তাদের চলমান ব্যক্তিক হিসাবসমূহ (আল-ওয়াদিয়া চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব এবং বিভিন্ন ধরনের মুদারাবা মেয়াদি হিসাব) থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্কিম অনুযায়ী যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদনের মাধ্যমে যথাযথ বিবেচনায় যে কোনো পরিমাণ অর্থ নিয়মমাফিক মুনাফা প্রাপ্তিসহ উত্তোলন করতে পারবেন। অধিকতর প্রয়োজনে যেসব গ্রাহক তাদের মেয়াদি হিসাব বন্ধ করে এক্সিট নিতে চান, তারা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পরবর্তী যে কোনো সময় লিখিত ঘোষণার মাধ্যমে তাদের হিসাবের শুধু প্রাথমিক মূলধন (ইনিশিয়াল প্রিন্সিপাল ডিপোজিট) উত্তোলনপূর্বক এক্সিট নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তারা কোনো মুনাফা প্রাপ্য হবেন না। তবে গ্রাহক যেন তাদের প্রাথমিক জমাকৃত মূল অর্থ সম্পূর্ণ ফেরত পান, সেজন্য এসব হিসাব থেকে কর্তনকৃত বাৎসরিক আবগারি শুল্ক ব্যাংক বহন করবে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশা প্রকাশ করে বলেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতায় অতি দ্রুত আমরা সম্মিলিত ইসলামী বাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারব। সেক্ষেত্রে গ্রাহকের মুনাফার ওপর কোনো প্রকার হেয়ারকাট থাকবে না এবং গ্রাহকরা অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে স্বাভাবিক লেনদেন করতে পারবেন।
ব্যাংকের বিদ্যমান গ্রাহকদের আশ্বস্ত করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সবার যৌথ প্রচেষ্টায় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এবং গ্রাহকদের প্রত্যাশিত ও মানসম্মত ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সক্ষম হবে। তিনি ব্যাংকের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও আস্থা অর্জনই হবে ব্যাংকের প্রতিটি কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তিনি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের শরিয়াহভিত্তিক, আধুনিক, নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের আহ্বান জানান।



