মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ, ঢাকার বিমানবন্দরে আটকা বহু চালান

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ায় এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজের মতো বিমান সংস্থাগুলো অনেক ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর জেরে বিশ্বের বড় বড় পোশাক ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ পণ্য বাংলাদেশ ও ভারতের বিমানবন্দরে আটকে আছে। অন্তত তিনটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রয়টার্সকে এই তথ্য জানিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের অন্যতম পোশাক উৎপাদন কেন্দ্র। বিশ্বের ফাস্ট ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের কারখানা থেকে টি-শার্ট, জিন্স ও জামা-কাপড়ের নিয়মিত জোগান দিয়ে থাকে।
এ বিষয়ে পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, ‘ঢাকার বিমানবন্দরে আমাদের পোশাকের চালান আটকে আছে। এগুলো দুবাই হয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু দুবাই বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় আমরা এখন খুব বিপদে আছি। বিকল্প পথ বের করার চেষ্টা করছি। কিন্তু সব রুটই বেশ জটিল আর খরচও অনেক বেশি।’
ইউরোপের যেসব ক্লায়েন্টের জন্য স্প্যারো গ্রুপ পোশাক তৈরি করে, তাদের মধ্যে ইন্ডিটেক্স, মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার (এমঅ্যান্ডএস), নেক্সট ও প্রাইমার্কের নাম উল্লেখযোগ্য।
গত শনিবার মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ওই অঞ্চলের বেশির ভাগ আকাশপথই বন্ধ। এতে বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দর দুবাইও কয়েক দিনের জন্য কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়। কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস ও ইত্তিহাদের মতো বড় বিমান সংস্থাগুলো ফ্লাইট বাতিল করে দিয়েছে।
সিডনির ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফ্রেডেরিক হর্স্ট জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সাধারণত বাণিজ্যিক ফ্লাইটে করে পণ্য পাঠায়। সেগুলোর বেশিরভাগ উপসাগরীয় বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভরশীল। কিছু ফ্লাইট থাকে শুধু পণ্যবাহী।
হর্স্টের মতে, বাংলাদেশ থেকে বিমানপথে পাঠানো পণ্যের অর্ধেকের বেশি উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যায়। ভারতের ক্ষেত্রে এই হার ৪১ শতাংশ। আর এই পণ্য পরিবহনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজ।
ইন্ডিটেক্সের ২০২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশে তাদের সরবরাহকারী আছে ১৫০টি, ভারতে ১২২টি আর পাকিস্তানে ৬৯টি। তবে সাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদনে দেশভিত্তিক এ তথ্য দেওয়া হয়নি। পণ্য আটকে থাকার ঘটনায় তাদের কোনো মন্তব্যও পাওয়া যায়নি।
পণ্য পরিবহন সক্ষমতা কমেছে, খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ
আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা কমে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে কয়েক গুণ। মুম্বাইভিত্তিক একটি পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মুম্বাই থেকে অস্ট্রিয়ায় পণ্য পাঠানোর বিমানভাড়া ইতোমধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ এশিয়া থেকে পণ্য পাঠানোর সমস্যা প্রসঙ্গে প্রাইমার্ক, এইচঅ্যান্ডএম ও মার্কস অ্যান্ড স্পেনসার জানিয়েছে, তাদের বেশির ভাগ পণ্য সমুদ্রপথে যায়। পরে অবশ্য এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় পণ্যবাহী ফ্লাইট স্থগিত আছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে আকাশপথে পড়তে শুরু করেছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ইরান, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হলো হরমুজ প্রণালি। সেটা বন্ধ থাকলে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের খরচও বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে আমরা শঙ্কিত। মনে হচ্ছে আরেকটা বড় সংকট সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।’