logo
Advertisement

গণমাধ্যম মক্কা চুক্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে: অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজশাবিপ্রবি
গণমাধ্যম মক্কা চুক্তি নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে: অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী
মক্কা চুক্তি বিষয়ক ওয়েবিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। ছবি: ওয়েবিনার থেকে নেয়া।

বাংলাদেশ এখনও মক্কা চুক্তির (মক্কা প্যাক্ট) বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি এবং চুক্তির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও নীতিগত বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। গণমাধ্যমে এই চুক্তি নিয়ে অতিরিক্ত ‘হাইপ’ বা বাড়াবাড়ি তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ‘ইলেকশন ল্যাব’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও মক্কা চুক্তি: সম্ভাবনা, কৌশলগত পছন্দ এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়েবিনারে অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাব্য মক্কা চুক্তিতে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঝুঁকি এবং পররাষ্ট্রনীতির স্বাধীনতা বিবেচনা করা উচিৎ। আগাম কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিষয়টির সামরিক ও কূটনৈতিক দিকগুলো আরও গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে কোনো সামরিক বা নিরাপত্তা জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। দেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক ভিত্তি ও জাতীয় ঐকমত্য শক্তিশালী না হলে কোনো বহিরাগত শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার দীর্ঘদিনের চর্চার কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অংশগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ আসতে হবে। এরপর বিষয়টি নিয়ে সংসদে দলমত-নির্বিশেষে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত। জনগণের মতামত বিবেচনায় নিয়ে চুক্তিতে যোগ দিলে বাংলাদেশের ঠিক কতটা লাভ হবে এবং এর বিনিময়ে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করা দরকার। পাশাপাশি এর ফলে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় কোনো সীমাবদ্ধতা তৈরি হবে কি না, তাও নিশ্চিত হতে হবে।

ওয়েবিনারে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের সভাপতি রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবীর, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম।

আলোচনায় রাষ্ট্রদূত এম. হুমায়ুন কবীর মক্কা প্যাক্টের সম্ভাব্য কৌশলগত গুরুত্ব ও জাতীয় স্বার্থের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ড. মো. মনিরুজ্জামান সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং তাদের আঞ্চলিক সহযোগিতার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোকপাত করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম এবং সঞ্চালনা করেন ইলেকশন ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইলেকশন ল্যাবের অতিরিক্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. জায়েদ শারমিন।