Advertisement

সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের

এশিয়া পোস্ট নিউজ, রাবি
সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রাবি অধ্যাপকের
অভিযুক্ত সাংবাদিক ইনসান আলী। ছবি: সংগৃহীত

মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (আইবিএস) পরিচালক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল। একই ঘটনায় এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।

Advertisement

অভিযুক্ত সাংবাদিকের নাম ইনসান আলী। তিনি রাবি প্রতিদিন নামের একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন ও স্টুডেন্ট জার্নাল নামের একটি অনলাইন পোর্টালে কাজ করেন। এ ছাড়াও তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগে অধ্যাপক মোস্তফা কামাল জানান, গত সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে আইবিএস পরিচালকের কক্ষে গিয়ে সাংবাদিক ইনসান আলী তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ সময় ক্যাম্পাস টুডে নামের একটি ফেসবুক পেজের অ্যাডমিন আবির মুবিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস-এর রাজশাহী প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের সেখানে পাঠিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এরপর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে– আইবিএসের একটি গবেষণা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং দুই বছর পেরিয়ে গেলেও গবেষণার প্রতিবেদন প্রকাশ না করার অভিযোগ তোলা হয়। প্রতিবেদনে প্রায় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যাপক মোস্তফা কামাল বলেন, চাঁদা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে গবেষণা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের কাছে হিসাব-নিকাশ স্পষ্টভাবে আছে। সব হিসাব অডিট করা হবে। সংবাদে দাবি করা হয়েছে, দুই বছর ধরে কাজ হয়েছে। কিন্তু আমরা গত আগস্টে কাজটি পেয়েছি এবং বর্তমানে গবেষণার কাজ প্রায় শেষের দিকে।

অধ্যাপক মোস্তফা কামালের দাবি, ইনসান আলীসহ আরও দুইজন সাংবাদিক কয়েক দফা তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় ছয় লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে তাদের কিছু অর্থ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়।

তিনি জানান, কে অভিযোগ করেছেন জানতে চাইলে তারা বলেন– অভিযোগ আছেই, ভালোয় ভালোয় আমাদের কিছু দিয়ে দেন, আমরা চলে যাব।

অধ্যাপক এশিয়া পোস্টকে বলেন, এটা সরকারি প্রজেক্ট। কাজ শেষে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে অডিট করা হয়। সেখানে এক টাকাও নয়ছয় করার সুযোগ নেই। আমি উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এ ছাড়া থানায় জিডি করেছি। পুরো আইবিএসকে কলুষিত করা হয়েছে। আমি বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে রাজি নই।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাংবাদিক ইনসান আলী। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে আমার কোনো কিছু জানা নেই। তবে স্যার বলছিলেন, শহরের আমজাদ ভাই নাকি চাঁদা দাবি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা আইবিএসের পরিচালক অধ্যাপক মোস্তফা কামাল স্যারের কাছ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি যাচাই করে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির এশিয়া পোস্টকে জানান, একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।