logo
Advertisement

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা ও দোয়া

এশিয়া পোস্ট ডেস্ক
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে আলোচনা সভা ও দোয়া
আলোচনা সভা ও দোয়া। ছবি: এশিয়া পোস্ট

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটিতে (বিইউ) পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

Advertisement

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, কর্ম, আদর্শ ও মানবতার প্রতি তার অসামান্য অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক (অব.)।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এম এম এনামুল আজিজ, গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. উম্মে কুলসুম সুমা এবং আর্কিটেকচার বিভাগের চেয়ারম্যান স্থপতি শেখ ইতমাম সৌদ।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিজনেস ও ইকোনোমিক্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম, ফার্মেসি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ এবং সিএসই বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. সাদিক ইকবাল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আলোচনায় অংশ নেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হাসান জুয়েল এবং সোসিওলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত হাওলাদার। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মুফতি ইব্রাহিম খলিল।

আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ আমাদের প্রত্যেকের জন্য জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার উৎস। আল্লাহ আমাদের স্বাধীনভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা দিয়েছেন। আমাদের উচিত এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ গভীরভাবে অনুধাবন করা এবং তা দৈনন্দিন জীবনে অনুসরণ করা।

তিনি আরও বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে মানবজাতির জন্য পবিত্র কোরআনের বাণী নিয়ে এসেছেন। পবিত্র কোরআনে জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানবজীবন পরিচালনার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা রয়েছে। আমরা যদি কোরআনকে শুধু পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে এর শিক্ষা অন্তরে ধারণ করি এবং বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করি, তাহলে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

প্রফেসর ড. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ, মানবিক মূল্যবোধ ও জীবনদর্শন নতুন করে স্মরণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। মহানবী (সা.)-এর সততা, ন্যায়পরায়ণতা, বিনয় ও উত্তম চরিত্র আমাদের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ। তার শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করে আমরা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুবুল হক (অব.) মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে বলেন, মানুষের নিজের লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ও বিশ্বাস থাকতে হবে, কখনো হতাশ হওয়া যাবে না এবং মহান আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে অন্যদের সঙ্গে সদয়, সম্মানজনক ও সহানুভূতিশীল আচরণ করার শিক্ষাও মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন আমাদের ধৈর্য, মানবিকতা, সহমর্মিতা ও উত্তম চরিত্রের শিক্ষা দেয়। তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ ও মানবতাবাদী মানুষ, যিনি মানবকল্যাণে তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন। মহানবী (সা.)-এর জীবন আমাদের দেখায়, একজন মানুষ কীভাবে শুধু একটি জাতির কল্যাণে নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।