logo
Advertisement

এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ: চবির অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন

এশিয়া পোস্ট নিউজ, চবি
এশিয়া পোস্টে সংবাদ প্রকাশ: চবির অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়া নিউজ পোর্টাল এশিয়া পোস্টে ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ২২ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষকের গোপন তৎপরতা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ হাছান মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাত হোসেন এবং সদস্য হিসেবে থাকবেন ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আজম। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন।

আজ দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের অপতৎপরতাসংক্রান্ত একটি সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গভীর উদ্বেগ ও সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের প্রচলিত আইন, বিচারিক প্রক্রিয়া এবং রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং শৃঙ্খলাবিরোধী তৎপরতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় মুক্তবুদ্ধির চর্চা, আইনের শাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সাংবিধানিক কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার আড়ালে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী রাষ্ট্র ও শৃঙ্খলাবিরোধী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হলে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, নৈতিক অবস্থান এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ এর ৫৫(৩) ধারা ও চিটাগং ইউনিভার্সিটি এমপ্লয়িজ (ইফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) স্ট্যাটিউটস অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড শিক্ষকসুলভ নয়, অসদাচরণ ও নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ। যারা এরূপ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত এই বিধিবিধান এবং দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, এরূপ কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রচলিত নিয়মে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সমুন্নত রাখতে সচেষ্ট থাকার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে।