দুই মাসে শাবিপ্রবির হলে তিন ল্যাপটপ চুরি, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিজয়-২৪ আবাসিক হলে একের পর এক চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গত দুই মাসে হলের তিনটি কক্ষ থেকে তিনটি ল্যাপটপ চুরি হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হলের আবাসিক ব্লকগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের সময় হলের ৫০০৪ নম্বর কক্ষ থেকে একটি ‘আসুস ভিভোবুক’ ল্যাপটপ চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫৬ হাজার টাকা।
এর আগে, গত ৯ জুলাই ৪০১১ নম্বর কক্ষ থেকে একটি এবং প্রায় দুই মাস আগে ৪০০৮ নম্বর কক্ষ থেকে একটি 'থিংকপ্যাড'[২] ল্যাপটপ চুরি হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের নিচতলা, টিভি কক্ষ, ডাইনিং, ক্যান্টিন ও বাইরের অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও পাঁচতলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক ব্লকের ওপরের চার তলায় কোনো ক্যামেরা নেই। ফলে চুরির ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।
ল্যাপটপ হারানো শিক্ষার্থী মিনাল রহমান বলেন, ‘কিছুদিন আগে কিস্তিতে প্রায় ৬০ হাজার টাকা দিয়ে ল্যাপটপটি কিনেছিলাম। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় কক্ষের সবাই বাইরে ছিলাম। দরজার ওপরে চাবি রেখে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখি ল্যাপটপটি নেই। দরজার চাবি ব্যবহার করেই কেউ কক্ষে ঢুকে এটি নিয়ে গেছে। বাইরে থেকে কারও প্রবেশের সুযোগ ছিল না, কারণ সিঁড়ির সামনে সবাই নামাজ পড়ছিলেন। আমার ধারণা, ওপরের তলারই কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিজয়-২৪ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আ. ফ. ম. জাকারিয়া বলেন, হলে বারবার চুরির ঘটনা ঘটে চলেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রতিটি তলাকে নিরাপত্তার আওতায় আনতে আমরা কাজ করছি। গত ৮ জুন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। সর্বশেষ চুরির ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, আগের চুরির ঘটনার পরই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু কারণে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে। আমরা দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি।
অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, তদন্তে কেউ জড়িত প্রমাণিত হলে, তিনি আবাসিক শিক্ষার্থী হলেও তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হবে।
.png)


-df7057.jpg)

-713339.jpg)

