logo

ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগেভাগে জানাবে ঢাবি গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদ’

এশিয়া পোস্ট নিউজ
এশিয়া পোস্ট নিউজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ডেঙ্গুর ঝুঁকি আগেভাগে জানাবে ঢাবি গবেষকদের ‘স্মার্ট ফাঁদ’
প্রতীকী ছবি

ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতি ও বিস্তার আগেভাগে শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট-সংযুক্ত একটি ‘স্মার্ট ফাঁদ’ তৈরি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) গবেষকরা। ‘MAST-CloudNet’ নামের এই উদ্ভাবনী যন্ত্রটি মূলত শব্দ তরঙ্গের সাহায্যে মশাকে আকৃষ্ট করে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে এডিস মশা শনাক্ত করতে সক্ষম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল (ইইই) এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের যৌথ গবেষণার এই ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সাময়িকী আইইইই ট্রানজ্যাকশনস অন ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড মেজারমেন্ট-এ প্রকাশিত হয়েছে।

যন্ত্রটি স্ত্রী এডিস মশার ডানার কৃত্রিম শব্দ তরঙ্গ বাজিয়ে পুরুষ এডিস মশাকে আকৃষ্ট করে এবং ভেতরের ফ্যানের সাহায্যে একটি আঠালো কাগজে আটকে ফেলে। এরপর ফাঁদের ভেতরে থাকা বিশেষ ক্যামেরা মশার ছবি তুলে ক্লাউড সার্ভারে পাঠায়, যেখানে এআই প্রযুক্তি মশার প্রজাতি ও সংখ্যা পর্যবেক্ষণ করে সরাসরি ওয়েব ড্যাশবোর্ডে সংকেত পাঠায়।

প্রায় ১২ হাজার টাকা ব্যয়ে তৈরি এই যন্ত্রটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত অন্যান্য মশার ফাঁদের তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী এবং বিদ্যুৎ ছাড়াও অভ্যন্তরীণ ব্যাটারির সাহায্যে টানা সাড়ে চার ঘণ্টা সচল থাকতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে টানা তিন দিনের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় ঝোড়ো বৃষ্টি সত্ত্বেও যন্ত্রটিতে ৪৯টি এডিস মশা ধরা পড়ে।

গবেষকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক ফাঁদ বসিয়ে ডেঙ্গু ঝুঁকির একটি ‘আগাম মানচিত্র’ তৈরি করা হবে।

এই যুগান্তকারী উদ্ভাবনের জন্য গবেষক দলকে অভিনন্দন জানিয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আগেভাগে এডিস মশার প্রজনন ও বিস্তার জানা গেলে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে, যা জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।