Advertisement

ছাত্রদলের হামলায় ৭০ শিক্ষার্থী আহত, বিচার দাবি জকসু ভিপির

এশিয়া পোস্ট নিউজ, জবি
ছাত্রদলের হামলায় ৭০ শিক্ষার্থী আহত, বিচার দাবি জকসু ভিপির
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের হামলায় ৭০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। একইসঙ্গে হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের তিনটি দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য জকসুর উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

রিয়াজুল ইসলাম জানান, গত ৪ আগস্ট কয়েকজন শিক্ষার্থী দীর্ঘদিনের তিনটি মৌলিক দাবি নিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। দাবিগুলোর মধ্যে ছিল দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, সরকারঘোষিত ২০ কোটি টাকা দিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে জরুরি ভিত্তিতে একজন চিকিৎসক ও একজন ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ।

এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের এই অবস্থানে ছাত্রদল সন্ত্রাসী হামলা করে এবং এই হামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ এর অধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

আহতদের মধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল নেতারা, জকসুর নির্বাচিত ভিপি, জিএস, এজিএস, অন্যান্য প্রতিনিধি, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাও ছিলেন বলে দাবি জকসু ভিপির। এ সময় তিনি এ হামলার তীব্র নিন্দা জানান।

শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরকালে ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট
শিক্ষার্থীদের জন্য অ্যাম্বুলেন্স হস্তান্তরকালে ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, উপাচার্য মহোদয় আমাদের ধৈর্যশীল হতে এবং পরিস্থিতি যাতে ঘোলাটে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে বলেছিলেন। আমরা যথাযথভাবে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রেখে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো উত্থাপন করেছি এবং যথেষ্ট ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার জকসুর পক্ষ থেকে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য জকসুর উদ্যোগে একটি অ্যাম্বুলেন্সও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে নির্বাচিত হলে তাদের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করব। সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, প্রক্টর, পরিবহন প্রশাসক ও ছাত্রকল্যাণ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাম্বুলেন্সটি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছি।

এ সময় হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের তিনটি মৌলিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিভিন্ন দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ৭০ জন আহত হন বলে জানা যায়।

ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্র ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের ওপরও হামলার অভিযোগ ওঠে।

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, শিবির শিক্ষার্থীদের দাবির বিরুদ্ধে মব করার চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীরা ছাড়পোকার কামড়ে এবং মেসে মানবেতর জীবনযাপন করে মারাত্মকভাবে হতাশ ও জকসুর একাংশের প্রতি ব্যাপকভাবে ক্ষুব্ধ। শাখা ছাত্রদলের দাবি, শিবির যখন মব করার চেষ্টা করে, তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই তাদের সরাসরি প্রতিরোধ করে।