জারুল-সোনালুর বাহারে রঙিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এখন যেন রঙের উৎসব। জ্যৈষ্ঠের প্রখর রোদ আর তাপদাহের মধ্যেও প্রকৃতি এখানে ছড়িয়ে দিয়েছে প্রশান্তির পরশ। বেগুনি জারুল আর সোনালি সোনালুর মেলবন্ধনে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত ক্যানভাস। কোথাও আবার কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।
‘মনের মধ্যে যখন খুশি এই ছবিটি আঁকি, এক পাশে তার জারুল গাছে দুটি হলুদ পাখি’-কবি আহসান হাবীবের কবিতার সেই চিত্রকল্প যেন বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। গরমে যখন চারপাশ ধুলোমাখা ও বিবর্ণ, তখন এই ফুলগুলোই ক্যাম্পাসজুড়ে এনে দিয়েছে প্রশান্তির আবহ।
উপাচার্য ভবন থেকে প্যারিস রোড, জুবেরী মাঠ, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বধ্যভূমি এলাকার পুকুরপাড়, চারুকলা চত্বর কিংবা পশ্চিম পাড়া-সবখানেই এখন জারুল-সোনালুর মুগ্ধতা। হালকা বাতাসে দুলতে থাকা ফুলগুলো যেন ক্লান্ত পথচারীকেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে।
জারুলকে অনেকে ‘বাংলার চেরি’ বলে থাকেন। সৌন্দর্যের পাশাপাশি এই গাছের রয়েছে নানা ঔষধিগুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, জারুলের পাতা ও ফলে রয়েছে বিভিন্ন উপকারী উপাদান, যা ডায়াবেটিসসহ নানা রোগের চিকিৎসায় সহায়ক। একইভাবে সোনালু ফুলের পাতা, ফল ও ছালও ভেষজগুণে সমৃদ্ধ। কোষ্ঠকাঠিন্য, চর্মরোগ, বাতের ব্যথা ও পেটের নানা সমস্যায় এর ব্যবহার রয়েছে।
ক্যাম্পাসের এই রঙিন রূপ মুগ্ধ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দর্শনার্থীদেরও। বিকেলে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিরিবিলি বসে উপভোগ করছেন প্রকৃতির সৌন্দর্য।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ হোসেন বলেন, সুযোগ পেলেই এখানে আসি। ফুলগুলো দেখলে মন ভালো হয়ে যায়। এই পথ দিয়ে গেলেই যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, জ্যৈষ্ঠে প্রকৃতি যেন রঙের উৎসবে মেতে ওঠে। লাল কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর বেগুনি জারুল মিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে এক জীবন্ত চিত্রপট।
বোটানি বিভাগের অধ্যাপক সাবরিনা নাজ বলেন, জারুল ও সোনালু শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এদের রয়েছে নানা ঔষধিগুণও। ফুল থেকে ফল তৈরি হয়, আর পরাগায়নের মাধ্যমে প্রকৃতির এই চক্র চলমান থাকে। এভাবেই ক্যাম্পাস ফুলে-ফলে ভরে ওঠে।
