আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন শেকৃবি গবেষক

ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক গবেষণা সম্মেলনে পোষা প্রাণীর প্রজনন স্বাস্থ্য ও কল্যাণবিষয়ক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও পোষা প্রাণী চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।
নিউটারিং ও স্পেইং বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ গবেষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা উপস্থাপন করবেন শেকৃবির এই গবেষক।
আগামী ১০–১৪ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ৫৯তম ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর অ্যাপ্লাইড ইথোলজি (আইএসএই) কনফারেন্স ২০২৬-এ তিনি ‘অ্যাসেসমেন্ট অব নলেজ, অ্যাটিটিউডস অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস অ্যামং পেট ওনার্স রিগার্ডিং নিউটারিং অ্যান্ড স্পেইং অব পেট অ্যানিম্যালস ইন ঢাকা, বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
তবে আন্তর্জাতিক এ অর্জন কেবল গবেষণাপত্র গৃহীত হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; গবেষণার বৈজ্ঞানিক মান ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ড. ইসলাম পোষা প্রাণী কল্যাণ সেশনে সম্মানজনক ‘পিউরিনা অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন। এই প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ, নিবন্ধন, অবস্থান ও যাতায়াতসহ প্রয়োজনীয় সব আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী প্রাণীর আচরণ, প্রাণীকল্যাণ ও দায়িত্বশীল পোষ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণায় আইএসএই কনফারেন্স অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মেলন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকদের জমা দেওয়া গবেষণা প্রবন্ধ কঠোর বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। এর পাশাপাশি সীমিতসংখ্যক গবেষককে আন্তর্জাতিক ‘পিউরিনা অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হয়, যা গবেষণার মান ও সম্ভাবনার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতিফলন।
ড. মো. রাশেদুল ইসলাম ও মো. আরিফুর রহমান গবেষণাটি যৌথভাবে সম্পন্ন করেছেন। গবেষণায় ঢাকার ১৫২ জন প্রাপ্তবয়স্ক পোষা প্রাণীর মালিকের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, অধিকাংশ অংশগ্রহণকারীর নিউটারিং ও স্পেইং সম্পর্কে মৌলিক ধারণা থাকলেও বাস্তব জীবনে সেই জ্ঞান ইতিবাচক অনুশীলনে রূপ নিচ্ছে না। বরং অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতার ভয়, সীমিত সচেতনতা, সামাজিক ও ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ব্যয়ের বিষয়টি এখনও এই চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করছে।
গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, কেবল তথ্য পৌঁছে দেওয়াই যথেষ্ট নয়; দায়িত্বশীল পোষ্য পালন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন সাশ্রয়ী ভেটেরিনারি সেবা, বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক জনসচেতনতা এবং ভেটেরিনারিয়ান, নীতিনির্ধারক ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ। গবেষকদের মতে, নিউটারিং ও স্পেইং অনাকাঙ্ক্ষিত বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজননজনিত রোগের ঝুঁকি কমাতে এবং প্রাণীকল্যাণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করে ড. মো. রাশেদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ পোষা প্রাণীর মালিক সাধারণত এক লিঙ্গের (পুরুষ বা স্ত্রী) প্রাণী পালন করেন এবং তাদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রজননে আগ্রহী নন। ফলে যথাযথ প্রজনন ব্যবস্থাপনা না থাকলে ভবিষ্যতে এসব প্রাণী বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। আমার গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে, প্রাণীর স্বাস্থ্য ও কল্যাণ বিবেচনায় উপযুক্ত ক্ষেত্রে নিউটারিং বা স্পেইং একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এ বিষয়ের ওপরই মূলত আমার গবেষণাপত্র। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রাণীকল্যাণ বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট নিয়ে আরও গবেষণা পরিচালনা এবং প্রাণীকল্যাণমূলক চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের ইচ্ছা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রাণীর আচরণ, কল্যাণ ও মানব-প্রাণী সম্পর্কবিষয়ক গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংগঠনের এই বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পোষা প্রাণী কল্যাণ বিষয়ক গবেষণা বিশ্বমঞ্চে নতুন গ্রহণযোগ্যতা পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের গবেষণা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, গবেষণার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং বাংলাদেশে প্রাণীকল্যাণভিত্তিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


