বাকৃবিতে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ, আহত ১৩
-713339.jpg)
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হল ও শহীদ শামসুল হক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারীঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই হলের ১৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও একাধিক শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত হয় কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের লেভেল-১, সেমিস্টার-২ এর দুই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে। ওই ব্যাচের এক নারী শিক্ষার্থীকে কটুক্তি করার জেরে বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে আশরাফুল হক হলের ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী শহীদ শামসুল হক হলের এক শিক্ষার্থীর কক্ষে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কিছুক্ষণ পর দুপক্ষের মধ্যে ফোনালাপের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। রাত সাড়ে তিনটার দিকে শহীদ শামসুল হক হলের ৬০ থেকে ৭০ জন শিক্ষার্থী লাঠিসোঁটা নিয়ে আশরাফুল হক হলে যায়। এ সময় হলের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, জানালার কাচ, সিসিটিভি ও লাইট ভাঙচুর করে। এ সময় ৯ জন শিক্ষার্থী আহত হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা রাত ৪টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং হল প্রভোস্টদের ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, শুক্রবার দুপুরে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আব্দুল জব্বার মোড় এলাকায় আশরাফুল হক হলের এক শিক্ষার্থীকে শহীদ শামসুল হক হলের প্রায় ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থী মারধর করেন। আধা ঘণ্টা পর আড়াইটার দিকে দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় দুই হলের আরও চারজন আহত হয়েছেন।
বাকৃবির হেল্থ কেয়ার সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আহত বৃহস্পতিবার রাতে নয়জন ও শুক্রবার দুপুরে ৪ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, রাতে দুই হলে মারামারির কথা শুনে আমিসহ প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তখনই দুই হলের শিক্ষার্থীদের মাঝে মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু শুক্রবার জুমার নামাজের পর আবার শুরু হয় মারামারি। একটা সামান্য বিষয় নিয়ে মারামারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদেরকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হবে। অতি দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি সমাধান করা হবে। দুই হলের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। সকলকে হেল্থ কেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
.png)





